Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রস্রাব পরীক্ষায় মিলবে শরীরে যক্ষারোগের জীবানুর উপস্থিতি

প্রস্রাব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় বাসা বেঁধে থাকা টিবির খোঁজ পাওয়া যাবে

প্রস্রাব পরীক্ষায় মিলবে শরীরে যক্ষারোগের জীবানুর উপস্থিতি
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: প্রস্রাব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় বাসা বেঁধে থাকা টিবির খোঁজ পাওয়া যাবে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং খড়্গপুর আইআইটি’র যৌথভাবে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করল। অনেক স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের দেহেও যক্ষ্মা রোগের জীবানু থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকলে সেই জীবানু মাথাচাড়া দিতে পারে না। দেখা দেয় না যক্ষ্মা রোগের উপসর্গও। কোনও কারণে দেহের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে, সুপ্ত অবস্থায় ওই জীবানুর উপস্থিতি জানা গেলে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সেই কারণেই মানুষের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে ওই গবেষণা চলবে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং খড়্গপুর আইআইটি’র এই যৌথ প্রয়াস টিবির মোকাবিলায় আগামী দিনে নতুন দিশা দেখাবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

Advertisement

খড়্গপুর আইআইটি ও তমলুক হাসপাতালের গাঁটছড়া বেঁধে কোনও গবেষণা এই প্রথম নয়। করোনা মহামারীর সময় যৌথভাবে কোভিড পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার পর দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও যৌথ গবেষণা হয়েছে। ‌এবার প্রস্রাব টেস্টের মধ্য দিয়ে টিবি রোগের জীবানু খুঁজে বের করার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু হল। প্রজেক্টটি ইতিমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সুভাশিস জানা এবং মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের প্রধান অনির্বাণ ভাদুড়ির সঙ্গে এনিয়ে কাজ করছেন খড়্গপুর আইআইটি’র প্রফেসর সোমদেব বসু দাশগুপ্ত এবং  সুমন চক্রবর্তী। 
বর্তমামে কফ পরীক্ষা এবং এক্স-রে মাধ্যমে টিবি শনাক্তকরণ করা হয়। এছাড়াও ফ্লুইড টেস্ট করে দেখা হয় টিবির জীবানু রয়েছে কি না। এবার প্রস্রাব টেস্টে সাফল্য মিললে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। প্রতি বছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় দু’হাজার টিবি রোগীর খোঁজ মেলে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক সৈকত দাস বলেন, ‘প্রতি বছর পূর্ব মেদিনীপুরে ১১০০-১২০০ জন এবং নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলায় ৭০০-৮০০ জনের মধ্যে যক্ষ্মা রোগের জীবানু ধরা পড়ে। সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্য‌ তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়।’
জানা গিয়েছে, গবেষণার প্রথম পর্যায়ে কয়েকজন মানুষকে স্ক্রিনিং করা হবে। সকালে তাঁদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে এই বিশেষ পরীক্ষা করা হবে। খড়্গপুর আইআইটি’র দুই অধ্যাপক এ সংক্রান্ত বিশেষ যন্ত্র আবিষ্কার  করেছেন। তার সাহায্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে। এই প্রয়াস সফল হলে তা এথিক্যাল কমিটির কাছে জমা পড়বে। খড়্গপুর আইআইটির প্রফেসর সোমদেববাবু বলেন, ‘প্রস্রাবের নমুনার উপর  এই টেস্ট করা অনেকটা সহজ। নমুনা সংগ্রহ করাও সহজ। খড়্গপুর আইআইটি থেকে আমরা দু’জন এবং তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক এই টিমে যুক্ত। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গোটা প্রজেক্ট ওয়ার্ক সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’ 
সুভাশিসবাবু বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে যক্ষ্মা মোকাবিলায় নতুন দিশা বেরিয়ে আসবে। অনেক সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। খড়্গপুর আইআইটি এবং তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে এই প্রয়াস সফল হবে বলে আশা রাখছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ