সংবাদদাতা, তেহট্ট: শুক্রবার বিকালে তেহট্ট-১ ব্লকের কানাইনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সিপিএমের প্রধান ও সচিবের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন পড়েছে। দু’জনই তেহট্ট থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে। ওইদিন সন্ধ্যায় তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অবশ্য মারামারিতে কারও আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাঁদের দু’জনকেই থানা থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত গত ৪ জুলাই কাজ না করিয়েই ঠিকাদারকে পেমেন্ট দেওয়ার মতো আর্থিক অনিয়মের অভিযুক্ত প্রধানকে সাত লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন বিডিও। তিনি ওই টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।।
স্থানীয় ও পুলিস সুত্রে জানা গিয়েছে, কানাইনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় রয়েছে সিপিএম- কংগ্রেস জোট। প্রধান হয়েছেন সিপিএমের টগরী ঘোষ। মাস সাতেক আগে সচিবের কার্যভার গ্রহণ করেন কংকাতা শীল গঙ্গোপাধ্যায়। বিডিওর কাছ থেকে টাকা ফেরতের নির্দেশ পাওয়ার পর প্রধান পঞ্চায়েত সচিবকে পেমেন্টের ভাউচার ও বিল তাঁকে দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। প্রধানের অভিযোগ, সচিব সেই বিল ও ভাউচার তাঁকে দিচ্ছেন না। শুক্রবার বিল ও ভাউচার চাইলে সচিব প্রধানকে তার জেরক্স দেবেন বলে জানান। তা নিয়েই উভয়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রধান সচিবের ব্যাগ থেকে আলমারির চাবি কেড়ে নিতে গেলে দু’জনের মধ্যে মারামারি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। খবর পেয়ে তেহট্ট-১ ব্লকের বিডিও সঞ্জীব সেন ও নাজিরপুর ফাঁড়ি ও তেহট্ট থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দু’জনকেই ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। শারীরিক পরীক্ষার পর তাঁদের থানায় নিয়ে আনা হয়। সন্ধ্যায় উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।
সচিব বলেন, আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ ব্যবহার করছেন প্রধান। উনি যে ভাউচার চাইছেন তা আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগের। আমি কী করে তাঁকে ওই ভাউচার ও বিল দেব? যদি সেখান থেকে একটা বিল বা ভাউচার হারিয়ে যায় আমাকে তার জবাবদিহি করতে হবে। তাও আমি বলেছি, জেরক্স কপি দেব। এই শুনে প্রধান আমার কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেন। আমাকে মারধর করেন। এরআগেও আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি দু’বার লিখিতভাবে তা বিডিও সাহেবকে জানিয়েছি।
এই বিষয়ে প্রধান বলেন, কাউকে মারধর করা হয়নি। তবে চাবি কেড়ে নিয়েছি। সচিবকে লিখিতভাবে বিল ও ভাউচার চেয়েছিলাম। তাও তিনি তা দিতে চাননি। তাই চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা রজব মণ্ডল বলেন, প্রধানের নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছি আমরা। প্রধান সচিবকে চাপ দিয়ে সেই বিল ও ভাউচার নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন। তবে, আমি সেইসময় পঞ্চায়েতে ছিলাম না। শুনলাম সচিব আর প্রধানের মধ্যে মারামারি হয়েছে।
বিডিও বলেন, অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দু’জনকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিস তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।