নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বর্ষার মরশুমেও চাহিদা মতো বৃষ্টির দেখা নেই উত্তরবঙ্গে। নির্দিষ্ট সময়ের ১২ দিন আগে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও এখানে জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি অস্বাভাবিক। প্রশাসন সূত্রে খবর, ১৩ থেকে ৫৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে আট জেলায়। এরজেরে পাহাড় ও সমতলে গরমের দাপট অব্যাহত। একইসঙ্গে বৃষ্টির অভাবে আমন ধান ও পাট চাষ মার খেতে পারে বলে আশঙ্কা। মৌসুমি অক্ষরেখার পূর্বপ্রান্ত স্বাভাবিকের থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থান করায় এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে এবার উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বৃষ্টি কম হতে পারে।
সাধারণত জুন মাসের ১০ তারিখ নাগাদ উত্তরবঙ্গে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। এবার প্রায় ১২ দিন আগে গত ৩০ মে এখানে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। কিন্তু জুন মাসে তেমন বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গত বছর শিলিগুড়িতে জুন মাসেই বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১১৫৪.৬০ মিলিমিটার। এবার তা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬৬ মিমি। অর্থাৎ, প্রায় ৬৮৮.৬০ মিমি বৃষ্টি কম হয়েছে।
সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, মৌসুমি অক্ষরেক্ষার পূর্বপ্রান্ত স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা দক্ষিণ দিকে অবস্থান করছে। তাই এবার এবৃষ্টির তীব্রতা নেই। অধিকাংশ সময় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। বিক্ষিপ্তভাবে এক-দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য গত বছরের তুলনায় এবার জুন মাসে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের অবস্থা একই। প্রতিটি জেলাই বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, এবার জুন মাসে সবচেয়ে কম বৃষ্টির পরিমাণ উত্তর দিনাজপুর জেলায়। ঘাটতি প্রায় ৫৪ শতাংশ। এর বাইরে দক্ষিণ দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িতে ৩৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। আলিপুরদুয়ারে ৩৬ এবং দার্জিলিং জেলায় ৩২ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। কালিম্পং ও কোচবিহার জেলায় বৃষ্টিপাত কম ২৪ শতাংশ করে।
সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা বলেন, দেশের অন্যান্য প্রান্তে বৃষ্টি বাড়লেও এবার সিকিম ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এবার স্বাভাবিকের কাছাকাছি বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের এমন পূর্বাভাস নিয়ে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, দুই দিনাজপুর ও মালদহে চাষিরা দুশ্চিন্তায়। তাঁরা আমন ধানের জমি তৈরি করা এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য এখন বৃষ্টির প্রার্থনা করছেন। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে। দরকার পড়লে জমিতে সেচের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। নিজস্ব চিত্র।