Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চতুর্দিক অপরিচ্ছন্ন, রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত

মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। মশার উপদ্রব এতটাই যে সন্ধ্যায় বাড়ির দরজা জানালা খোলা যাচ্ছে না।

চতুর্দিক অপরিচ্ছন্ন, রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। মশার উপদ্রব এতটাই যে সন্ধ্যায় বাড়ির দরজা জানালা খোলা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতেই রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলাজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট। স্বাস্থ্য জেলার পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮ জন। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। পাঁচটি বিধানসভার আটটি ব্লক নিয়ে রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলা। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে গ্রামগঞ্জের নিকাশি নালা পরিষ্কার হতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জেরে তা বন্ধ। বিভিন্ন এলাকার নালাগুলি ময়লা আবর্জনায় ভরেছে। নালায় জমে থাকা জলে বোঝা যাচ্ছে মশার উপস্থিতি। বিভিন্ন রাস্তার ধারে দিনের পর দিন সাজিয়ে রাখা থাকছে নির্মাণ সামগ্রী। এছাড়া ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার হয় না। পঞ্চায়েত থেকে সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না বলে অভিযোগ। যার জেরে গতবছরও দেখা ছড়িয়েছিল ডেঙ্গু। এবারও জমা জলে বাড়ছে এডিস ইজিপ্টাইয়ের সংসার। ঘরে ঘরে বাসা বাঁধছে জ্বর-সর্দি-কাশি। গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট। রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ তিন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ জন। তার মধ্যে রামপুরহাট ২ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। গত রবিবার পর্যন্ত ওই ব্লকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ জন। রামপুরহাট ১ ব্লকে ৮, নলহাটি ১ ব্লকে ১২, নলহাটি ২ ও মুরারই ২ ব্লকে ৪ জন করে। এছাড়া নলহাটি পুরসভা এলাকায় ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মুরারই ১ ও  ময়ূরেশ্বর ১ ব্লক মিলিয়ে ৫ জন এবং রামপুরহাট পুরসভা এলাকায় ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। 

Advertisement

গত মার্চ মাস পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩০। রা঩঩জ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থানে ছিল এই স্বাস্থ্যজেলা। বর্ষায় সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করেছিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা। এরই মধ্যে দিন কয়েকের বৃষ্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্লক, পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলিকে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যজেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তিনমাসে ৫২৭৩ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৭৮ জনের দেহে ডেঙ্গুর জীবানু মিলেছে। বর্তমানে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩। তাঁরা চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতেই রয়েছেন। স্বাস্থ্যজেলার ডেপুটি সিএমওএইচ প্রকাশ রায় বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্ত আক্রান্ত রোগীদের শুশ্রষা ও ফলো আপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভিসিটি, ভিআরপি টিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও জমা জল নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বরের হিসেবও রাখছেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হেল্থ এন্ড ওয়েলনেস সেন্টারগুলিতে জ্বরের চিহ্নিতকরণের ব্যবস্থা বা ফিভার ক্লিনিক করা হয়েছে। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি ফিভার সার্ভের মাধ্যমে সাসপেক্টেড রোগীদের সন্ধান করছেন এবং রক্ত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ