নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো আর সপ্তাহ দু’য়েকের অপেক্ষা। প্রস্তুতি চরমে। বড়ো পুজোগুলির ক্ষেত্রে প্রায় গভীর রাত পর্যন্ত জেগে জোরকদমে মণ্ডপসজ্জার কাজ করছেন শিল্পী থেকে শ্রমিকরা। এই অবস্থায় রবিবার মধ্যরাতে কাজ চলাকালীন হরিদেবপুরের ৬৬ বছরের পুরানো অজেয় সংহতি পুজো মণ্ডপে দুষ্কৃতী হামলা চলে। আকস্মিক এই হামলায় পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আতঙ্কে ভুগছেন মণ্ডপসজ্জায় নিযুক্ত শ্রমিকরাও। পুজোর কাজ ছেড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার আরজি জানিয়েছেন তাঁরা। পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, তাণ্ডবের ঘটনার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে হরিদেবপুর থানার তরফে মণ্ডপ প্রাঙ্গনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছিল পুলিশের কাছে। সেই দাবিতে সম্মতি জানানো হয়েছে। কিন্তু, এখনও আতঙ্ক কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে পুজোর কাজ নিয়েও সংশয়ে উদ্যোক্তারা।
রবিবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ অজেয় সংহতি পুজো মণ্ডপে ঢুকে তাণ্ডব চালায় ১০-১৫ জন দুষ্কৃতী। ক্লাবের সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলার তথ্যপ্রমাণ লোপাটের উদ্দেশে হাতিয়ে নেওয়া হয় ক্যামেরার হার্ডডিস্ক। যদিও তার আগেই তাণ্ডবের সময়ের বেশ কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করে রেখেছিলেন ক্লাবের সদস্যরা। সেই ফুটেজ সহ গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে সোমবার রাতে হরিদেবপুর থানায় ক্লাবের তরফে লিখিত অভিযোগ জমা করা হয়। তবে ঘটনার প্রায় দেড় দিন কেটে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, এত বড়ো ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশি তৎপরতা না থাকার জন্যই শিল্পী, শ্রমিকদের মধ্যে আরও আতঙ্কের সঞ্চার হয়েছে। পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, ‘ঘটনার সময় খবর দেওয়া হলেও পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি।’ মণ্ডপসজ্জায় যুক্ত শ্রমিকরা বলছেন, ‘রোজগারের আশায় আমরা কাজ করতে আসি। কিন্তু, রবিবারের ঘটনার পর কাজ করতে ভয় লাগছে। এই ঘটনা আর ঘটবে না তা নিশ্চিত করুক পুজো কমিটি।’
থানায় অভিযোগ না করার জন্যও উদ্যোক্তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি। সোমবার রাতেই ঘটনাস্থল যায় পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে ক্লাবের সদস্যদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁরা অভিযোগপত্র জমা করেন। মূলত ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পুলিশের কাছে উদ্যোক্তাদের দাবি, অবিলম্বে ক্লাবে পুলিশি নিরাপত্তা প্রয়োজন। একইসঙ্গে, পুলিশি আশ্বাস না পেলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুজোর কাজ স্থগিত রাখতে হবে বলে থানায় জানানো হয়। ক্লাবের সম্পাদক পীযূষ হালদার জানিয়েছেন, এই দাবি জানানোর পর মঙ্গলবার সকাল থেকে হরিদেবপুর থানার তরফে দু’জন পুলিশকর্মীকে নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু, এদিন রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। সেখানেই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাণ্ডবের ঘটনার ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে বিলম্ব কেন? এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। লালবাজার জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।