Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের মদত, লাগামছাড়া দাম মিনিকেটের

সব্জির দাম উর্ধ্বমুখী। ঝিঙে, পটল, বেগুন সহ প্রায় সমস্ত সব্জি কেজি প্রতি ৫০টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই তুলনায় আলু বেশ সস্তা।

পিছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের মদত, লাগামছাড়া দাম মিনিকেটের
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সব্জির দাম উর্ধ্বমুখী। ঝিঙে, পটল, বেগুন সহ প্রায় সমস্ত সব্জি কেজি প্রতি ৫০টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই তুলনায় আলু বেশ সস্তা। তাই কিছু না হলে মিনিকিট চাল আর আলু ফুটিয়ে পেটের খিদে দূর করছিলেন অনেক দুঃস্থ মানুষ। কিন্তু এখন সেই চালের দামও বাড়তে শুরু করেছে। মাঝে কিছুদিন দাম না বাড়লেও গত দু’দিন ধরে কেজি প্রতি তিন-চার টাকা দাম বেড়েছে। ক্রেতাদের আশঙ্কা, কয়েকদিনের মধ্যে দাম আরও বাড়বে।

Advertisement

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ধানের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছেন বলে ক্রেতারা মনে করছেন। বর্ষার সময় চাষিরা সাধারণত ধান বিক্রি করেন না। পুজোর আগে তাঁরা ধান বিক্রি করেন। সেটা ব্যবসায়ীদেরও অজানা নয়। তাঁরা বর্ষার আগেই ধান কিনে নেন। এরপরই ব্যবসায়ীদের একাংশ কৃত্রিমভাবে সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়ান বলে ক্রেতারা অভিযোগ তুলেছেন।
ক্রেতারা জানান, চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও চাষিরা ধানের দাম সেভাবে পান না। এমনকী, ফড়েদের পাশাপাশি সরকারি ক্রয়কেন্দ্রেও বিভিন্ন অজুহাতে ধান বেশি নেওয়া হয়। তাছাড়া, সমস্ত জায়গায় সরকারি ক্রয়কেন্দ্র না থাকায় চাষিদের ফড়েদের উপর নির্ভর করতে হয়। অনেক চাষিই কম দামে ধান বিক্রি করে বেশি দামে চাল কেনেন। 
তালিত এলাকার ধানচাষি তপন দাস বলেন, রেশনে সরকার বিনামূল্যে চাল দেয়। তবে তা সবাই খেতে অভ্যস্ত নয়। বেশিরভাগ পরিবার মিনিকিট চালের ভাত খায়। এই চালের দাম বেড়েই চলছে। ৫০-৫৫টাকা কেজির নীচে মিনিকিট চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এক-এক জায়গায় আলাদা দাম নেওয়া হচ্ছে।
বর্ধমানের বাসিন্দা কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের মিনিকিট চাল রয়েছে। গত দু’দিনে সবরকমের মিনিকিট চালের দাম বেড়ে গিয়েছে। কেজি প্রতি তিন-চার টাকা দাম বেড়েছে। আগামী দিনে এই দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কে জানে।
রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সুব্রত মণ্ডল বলেন, এসময় চাষিরা ধান বিক্রি করতে চাইছেন না। সেই কারণে মিনিকিট চালের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। রাইস মিল থেকে কয়েকদিন আগে ৩৯-৪১টাকা কেজি দরে এই চাল বিক্রি হয়েছিল। সেটা এখন ৪৪-৫৫টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বর্ণ বা অন্য চালের দাম সেভাবে বাড়েনি।
ক্রেতারা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির জন্য সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠেছে। ডাল, তেল, শাকসব্জি সহ সমস্ত উপকরণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চালের দামও এভাবে বাড়তে শুরু করলে বহু পরিবার সমস্যায় পড়ে যাবে। কারণ রেশনে বিনামূল্যে চাল মিললেও সবাই তা খেতে অভ্যস্ত নয়। মিনিকিট চালের উপরই অনেকে নির্ভর করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ