Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেপালে অশান্তি: দু’দিনে পানিট্যাঙ্কির বাজারে ১৬ কোটি টাকার লোকসান

নেপালে ‘জেন-জি’দের বিদ্রোহ অব্যাহত। জায়গায় জায়গায় জ্বলছে আগুন। যার জেরে পানিট্যাঙ্কির বাজারে নেমেছে ধস। বুধবার সংশ্লিষ্ট বাজারে লেনদেন হয়নি বললেই চলে।

নেপালে অশান্তি: দু’দিনে পানিট্যাঙ্কির বাজারে ১৬ কোটি টাকার লোকসান
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নেপালে ‘জেন-জি’দের বিদ্রোহ অব্যাহত। জায়গায় জায়গায় জ্বলছে আগুন। যার জেরে পানিট্যাঙ্কির বাজারে নেমেছে ধস। বুধবার সংশ্লিষ্ট বাজারে লেনদেন হয়নি বললেই চলে। দু’দিনে সংশ্লিষ্ট বাজারে প্রায় ১৬ কোটি টাকার লোকসান। শুধু পানিট্যাঙ্কি নয়, হিমালয়ের দেশের অশান্তির প্রভাব পড়েছে শিলিগুড়ির রেগুলেটেড মার্কেটে। বৈদেশিক বাণিজ্যও স্তব্ধ। পুজোর মুখে সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে বেকায়দায় ব্যবসায়ীরা। 

Advertisement

শিলিগুড়ি মহকুমার বাণিজ্য কেন্দ্রগুলির মধ্যে পানিট্যাঙ্কি বাজার অন্যতম। এটি খড়িবাড়ি ব্লকের রানিগঞ্জ-পানিশালী গ্রাম পঞ্চায়েতে। এর ব্যবসা নেপালের ঝাপা জেলার উপর নির্ভরশীল। এখানে মুদি দোকান, ওষুধের দোকান, সাইকেল, মোটরপার্টস, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম প্রভৃতির দোকান রয়েছে। এখানে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ৯৪৮টি। নেপালের অশান্তির জেরে এদিন সেই দেশের কোনও ক্রেতা বাজারে আসেননি। বাজারে জমজমাট ভিড়, হইহট্টগোলের চেনা ছবি উধাও। ব্যবসায়ীরা কার্যত মাছি তাড়ান। 
পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, নেপালের কাকরভিটা, ঝাপা জেলার বাসিন্দারা এখানে দৈনিক বাজার করতে আসেন। দৈনিক এখানে ৮-৯ কোটি টাকার কারবার হয়। এদিন সেই দেশের ক্রেতারা না আসায় এখানে পাঁচ হাজার টাকার ব্যবসা হয়েছে কি না সন্দেহ। এদিন ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত শূন্য। দু’দিনে এই বাজারে প্রায় ১৬ কোটি টাকার লোকসান। 
১৯৮৬ সালে প্রায় ৬০ একর জমিতে সংশ্লিষ্ট বাজার গড়ে ওঠে। দার্জিলিং জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে ওই জমি ব্যবসায়ীদের লিজ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই বাজারের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়ী। বাজারের সম্পাদক বলেন, পুজোর মুখে এটা বড় ধরনের ধাক্কা। এখন এই ক্ষতি কীভাবে সামাল দেব, তা বুঝতে পারছি না। 
শুধু পানিট্যাঙ্কি বাজার নয়, নেপালের অশান্তির জেরে শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়ি দৈনিক নিয়ন্ত্রণ বাজার সমিতির ফল, সবজির বাজার, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। দৈনিক নিয়ন্ত্রিত বাজার সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি থেকে দিনে ছোট ও বড় মিলিয়ে সবজি, ফল বোঝাই ২০টি ট্রাক প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পাঠানো হতো। তাতে প্রায় ১২-১৫ লক্ষ টাকার কারবার হতো।  শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেট ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল কমিশন এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শিব কুমার বলেন, অশান্তির কারণে এখন প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ফল ও সবজি বেঝাই ট্রাক পাঠানো বন্ধ রয়েছে। উত্তরবঙ্গ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্রিজকিশোর প্রসাদ বলেন, এখান থেকে চাল, ভুট্টা, গম, কয়লা পাঠানো হয় নেপালে। অশান্তির জেরে দু’দিন ধরে সেই দেশে কোনও পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রচুর টাকার লোকসান হতে পারে।  
 শুনশান পানিট্যাঙ্কির বাজার।  - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ