বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে শীতলতা এসেছে। এরই মধ্যে ফের সংঘর্ষে উত্তাল বাংলাদেশ। বর্তমানে যেখানে অশান্তি শুরু হয়েছে, সেই গোপালগঞ্জ ভারত সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। তবে গত বছরের কথা স্মরণ করে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উন্মুক্ত সীমান্তে বসবাসকারী মানুষেরা সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
দক্ষিণ বেরুবাড়ি পঞ্চায়েতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মোট ২৯ কিমি সীমান্ত। তার মধ্যে ১৬ কিমি উন্মুক্ত। এই এলাকায় আছে নতুনবস্তি, নলজোওয়া পাড়া, চিলডাঙা, বারুইপাড়া, বনগ্ৰাম, ডাকের কামাত সহ আরও কয়েকটি গ্ৰাম। প্রশাসনের তরফে উন্মুক্ত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করার কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ কিমি উন্মুক্ত সীমান্তে বসবাসকারী পরিবারগুলি জমি দিতে রাজি হলেও অবশিষ্ট তিন কিমির বাসিন্দারা জমি দিতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, চাষের জমি চলে যাবে। ফলে গোটা এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এদিকে, ফের বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি শুরু হওয়ায় আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের।
বুড়িরজোতের বধূ মিনতি রায়ের কথায়, বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে নতুন করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা দেখে রাতে ঘুম আসছে না। এদিকে উন্মুক্ত সীমান্ত। ফলে যেকোনও সময় বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে ভারতে প্রবেশ করতে পারে। আমরা চাই, দ্রুত খোলা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।
আর এক বাসিন্দা প্রশান্ত রায় বলেন, গত বছর থেকে বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি। গত আগস্ট মাসে চিলডাঙার উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে একাধিক বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নাগরিক ভারতে ঢোকার জন্য ভিড় করেছিলেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বাংলাদেশের উত্তাল পরিস্থিতি শুনে আতঙ্কিত আমরা। তাই দ্রুত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হোক।
দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা দেব অধিকারীর বক্তব্য, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য অনেকে জমি ছাড়তে সম্মতি দিলেও বনগ্ৰাম, ডাকের কামাতে, মণিঙ্গাপাড়ার বাসিন্দারা সম্মতিপত্রে সই করতে রাজি হচ্ছেন না। তাঁদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করা হয়েছে। তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। নিজস্ব চিত্র।