Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষার খামখেয়ালিপনা, পিছিয়ে যাচ্ছে চাষ

জুন মাসে কোনও জেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও জলের অভাবে চাষ ধাক্কা খাচ্ছে

বর্ষার খামখেয়ালিপনা, পিছিয়ে যাচ্ছে চাষ
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দক্ষিণবঙ্গে এক এক জেলায় বর্ষার অলাদা রূপ।  জুন মাসে কোনও জেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও জলের অভাবে চাষ ধাক্কা খাচ্ছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যায়। এবার অনেক জেলাতেই সেই কাজ পিছিয়ে যায়। আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পূর্ব বর্ধমানে অতিরিক্ত বৃষ্টি হচ্ছে। এই জেলাগুলিতে বীজতলা তৈরি করতে সমস্যা হয়নি। ধান রোপণের জন্য জমিতে চাষ দেওয়া হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এই দুই জেলায় বীজতলা তৈরির কাজ কিছুটা পিছিয়ে যায়। মুর্শিদাবাদে জুন মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টি কম হয়েছে। বিগত কয়েক দিনে বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা স্বস্তি পেয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের এই দুই জেলায় বড় এলাকায় পাট চাষ হয়। জুন মাসের মতো জুলাইয়েও বৃষ্টির ঘাটতি হলে পাট চাষিরা সমস্যায় পড়বেন।

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম,  পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হুগলি জেলায় জুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যান্য বছর বর্ষার শুরুতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ব্যাপক বৃষ্টি হয়। কোনও কোনও জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবার অবশ্য ছবিটা অন্য রকম। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, জুন মাসের প্রথম দিকে বর্ধমানেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। বীজতলা তৈরি করতে সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু, বিগত কয়েক দিনে বর্ষা ভালই ব্যাটিং করেছে। বীজতলা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ধান রোপণের কাজ শুরু হয়ে যাবে। 
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আগে রথের দিন ধান রোপণের কাজ শুরু হতো। শুভ দিনে ধান রোপণ করতে পারলে ফলন ভালো হবে। এমনই ধারণা অনেকের ছিল। কিন্তু, কয়েক বছর ধরেই চাষিদের ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে না। বৃষ্টির জন্য সময়ে বীজতলা তৈরি না হওয়ার কারণেই চাষ পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে জুন মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হলেও জুলাইয়ের শুরুর দিন থেকেই অন্য ছবি দেখা যাচ্ছে। এদিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই জোর কদমে ধান রোপণের কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেইমতো কৃষিদপ্তরও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। চাষের সময় সারের যাতে কালোবাজারি না হয়, তারজন্য প্রতিটি জেলার আধিকারিকরাই বৈঠকে বসছেন। এমআরপির থেকে বেশি দাম নেওয়া যাবে না বলে ডিলারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাষিদের রসিদ ছাড়া সার বিক্রি করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ