Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘তৎকাল’ শংসাপত্র দিতে চড়া ফি নেওয়ার অভিযোগ, অনুমোদিত বলে জানাল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র, মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন নথি দ্রুত হাতে পেতে চড়া ফি দিতে হচ্ছে বলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পড়ুয়া।

‘তৎকাল’ শংসাপত্র দিতে চড়া ফি নেওয়ার অভিযোগ, অনুমোদিত বলে জানাল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র, মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন নথি দ্রুত হাতে পেতে চড়া ফি দিতে হচ্ছে বলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পড়ুয়া। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইল মালদহ জেলা প্রশাসনও। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কৌশলে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা বলে পাল্টা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, অর্থ বিভাগের সুপারিশ এবং এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) অনুমোদন অনুযায়ী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো তাদেরও ‘তৎকাল’ ফি নেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, পরীক্ষা নিয়ামক বিভাগে চেয়ারে বসে থাকা মহিলা একজনকে জানাচ্ছেন, আবেদন করার দিনই শংসাপত্র পেতে হলে দেড় হাজার টাকা দিতে হবে। পাঁচশো টাকা দিলে পরের মাসে ওই শংসাপত্র মিলবে। সেই ভিডিও ভাইরাল হতে দেরি হয়নি। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক বিশ্বরূপ সরকার বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও তৎকাল শংসাপত্র পেতে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। যে ভিডিও করা হয়েছে, সেটি পুজোর ছুটির আগের। ভিডিওয় যে মহিলাকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে, তিনি স্থায়ী কর্মী নন। পাঁচশো টাকা দিলে পরের মাসের যে কথা তিনি বলেছেন, তার অর্থ পুজোর ছুটির পর সাধারণভাবে শংসাপত্র মিলবে। 
পরীক্ষা সমূহের নিয়ামকের বক্তব্য, দেড় হাজার টাকা দিলে জরুরি ভিত্তিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শংসাপত্র দেওয়া হয়। সাধারণ ক্ষেত্রে পাঁচশো টাকা ফি দিলে সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের মধ্যে শংসাপত্র মেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের সুপারিশ এবং ইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৪ সাল থেকে এই ফি চালু হয়েছে। নতুন উপাচার্য পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি কাজে যোগদানের আগে কোনও কোনও মহল থেকে প্ররোচনা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শনিবার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তলব করা হয়। মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) শেখ আনসার আহমেদ বলেন, এবিষয়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তারা বক্তব্য জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য জেলাশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই তৎকাল ফি নেওয়া হয়। ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। শিক্ষা ও পড়ুয়াদের স্বার্থে সেই সেই অর্থ ব্যয় করা হয়। প্রশাসনকে সবটাই জানিয়েছি। জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলের মন্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ