Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়নের ঢাক পেটাতে গিয়ে হোঁচট খেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পুনর্বাসন, কয়লা চুরির দায় চাপালেন রাজ্যের উপরই

১১ বছরে মোদি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করতে শিল্পাঞ্চলে এলেন কয়লামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সতীশচন্দ্র দুবে।

উন্নয়নের ঢাক পেটাতে গিয়ে হোঁচট খেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পুনর্বাসন, কয়লা চুরির দায় চাপালেন রাজ্যের উপরই
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ১১ বছরে মোদি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করতে শিল্পাঞ্চলে এলেন কয়লামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সতীশচন্দ্র দুবে। রানিগঞ্জের বিশিষ্ট জনের সঙ্গে বৈঠকের পর আসানসোলে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মন্ত্রী। খনি অঞ্চলে কয়লা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর আসায় বহু মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল পুনর্বাসন থেকে কয়লা চুরি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবেন রাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্টে তিনি সব দায়ই রাজ্য সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছেন। ১১ বছরে কর্মসংস্থানের হিসাবে চাইলে তুলে ধরেছেন মুদ্রা যোজনা, স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে মানুষের স্বনির্ভর হওয়ার গল্প। 

Advertisement

কয়লাখনিকে কেন্দ্র করেই বিকাশ হয়েছিল রানিগঞ্জ-আসানসোল শিল্পাঞ্চলের। বিশেষ করে রানিগঞ্জের পরিচিতি খনি শহর হিসাবেই। কবিগুরুর ঠাকুরদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের হাত ধরে দু’শতাব্দী আগে থেকে এখানে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। পরবর্তীকালে খনি ধস নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রানিগঞ্জ পুনর্বাসন প্রকল্প গড়ে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। যাঁর অর্থ জোগাবে কোল ইন্ডিয়া। আর পুনর্বাসন করবে রাজ্য সরকার। এখনও সেই প্রকল্প অসম্পূর্ণ।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রানিগঞ্জের আলোচনা চক্রে দিশা দেখাবেন এই স্বপ্ন অনেকে দেখেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রী ১১ বছরের মোদি সরকারের বিকাশের ঢাক পেটাতে ব্যস্ত ছিলেন। আসানসোলে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, পুনর্বাসন দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের। কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিহারে লালুজি আর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার কী উত্তর দেব। 
উত্তর প্রদেশে চাচা ভাতিজা, এখানে বুয়া-ভাতিজার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লড়াই।’ কয়লা চুরির আটকাতে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, চুরি আটকানো রাজ্যের দায়িত্ব। কেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর উদ্ধার হল না বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর তোলা প্রশ্নের তাঁর কাছে আস঩তেই ঢোক গেলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সব কথা বাইরে আনা যায় না। মোদিজির নেতৃত্বে একটি পিওকে ভারতে আসবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ২০২৬ সালেও বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের তাঁর সাথে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পল, পুরুলিয়ার এমপি জ্যোতিময়সিং মাহাত, জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যরা। পশ্চিম বর্ধমানে জেলা পরিষদের মেন্টর ভি শিবদাসন দাসু বলেন, পুনর্বাসনের জন্য কোল ইন্ডিয়া টাকা দিচ্ছে না বলেই সমস্যা। এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের উপর দায় চাপাচ্ছেন। আবার রাজ্য পুনর্বাসন দিলে তখন কৃতিত্ব নিতে বিজেপি নেতারা হাজির হবেন। বিজেপির এই খেলা বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ