দুবাই: আমেরিকা-ইরান দু’পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় আপাতভাবে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে পশ্চিম এশিয়ায়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই অবিশ্বাসের বাতাবরণ। কারণ, বুধবার রাতেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল ইরান। সবচেয়ে বড়ো কথা হল, কী কারণে, কোন শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হল সবপক্ষ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমেরিকা-ইজরায়েল জোট হোক কিংবা ইরান—সকলেই নিজের মতো তত্ত্ব সামনে আনছে। তার জেরে দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও তা আদৌ কতদিন স্থায়ী হবে, সেব্যাপারে অন্ধকারে তথ্যভিজ্ঞ মহল। এরমধ্যে কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাইছে না তেহরান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির চুক্তির শর্ত নিয়ে ধোঁয়াশা মেটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রাণালী খুলে দেওয়া ও তেজষ্ক্রীয় ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের শর্তেই হামলা বন্ধ রেখেছে আমেরিকা। ইরানের দাবি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা জানিয়েছে, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ, তাতে টোল বসানোর অধিকার তাদের হাতেই থাকবে। ইউরেনিয়াম নিয়েও গবেষণা চালিয়ে যাবে তারা। এই শর্তেই চুক্তিতে রাজি হয়েছে তেহরান। এরইমাঝে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইজরায়েল। এনিয়ে ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হিজবুল্লাকে নিরস্ত্র করে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই এই বৈঠকের লক্ষ্য।
এদিকে ইরানের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে তৎপর আমেরিকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, চুক্তির সমস্ত শর্ত যতক্ষণ না পর্যন্ত পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ও সেনা ইরানকে চারপাশে থেকে ঘিরে রাখবে।
বৃহস্পতিবার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইরানের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ আবহে হরমুজ প্রণালীতে প্রচুর সি-মাইন পেতে রেখেছে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। হরমুজের মানচিত্র প্রকাশ করে তার উপর বেশ কয়েকটি স্থানে ফার্সি ভাষায় ‘ডেনজার জোন’ বা বিপজ্জনক এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী থেকে পারস্য উপসাগরের মুখ পর্যন্ত বিছানো রয়েছে মাইনগুলি। এই সমুদ্র পথ দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ হয়। যদিও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর সেই বিস্ফোরকগুলি তারা নিষ্ক্রিয় করেছে কি না, সেব্যাপারে ইরান কিছু জানায়নি।