Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি উদ্যোগে এবার ‘দুয়ারে মটন’ ডিম-মুরগির মাংসও বিক্রি করবেন প্রাণী পালকরা

সকাল সকাল বাজারের ব্যাগ হাতে খাসি মাংসের দোকানে গিয়ে দেখলেন, লম্বা লাইন পড়েছে

সরকারি উদ্যোগে এবার ‘দুয়ারে মটন’ ডিম-মুরগির মাংসও বিক্রি করবেন প্রাণী পালকরা
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সকাল সকাল বাজারের ব্যাগ হাতে খাসি মাংসের দোকানে গিয়ে দেখলেন, লম্বা লাইন পড়েছে। কয়েক হাত দূরে চিকেনের দোকানের সামনে লাইন আরও লম্বা। এদিকে আবার অফিস যাওয়ার তাড়া! লাইনে দাঁড়িয়ে মাংস কিনতে গেলে ট্রেন ফেল হবে। অগত্যা মাংস না নিয়েই বাড়ি ফিরতে হল! রসনা তৃপ্তি করতে গিয়ে সময়ের টানাটানির এই সমস্যা এবার মিটতে চলেছে। চিকেন, মটন, ডিমের মতো আমিষ খাদ্যগুলি এবার সরাসরি পৌঁছে যাবে ঘরের দুয়ারে। তার জন্য সরকারি  উদ্যোগে বিভিন্ন আবাসনে  মুরগির  মাংস, মটন, ডিম  নিয়ে  হাজির  হবেন  ‘প্রাণী পালক’রা। এঁরা মূলত ছোট প্রাণী লালন পালন করেন এবং সেগুলির দুধ, ডিম, মাংস বিক্রি করেন।

Advertisement

রাজ্যের মধ্যে প্রথম সোনারপুরের আবাসনগুলিতে এই পরিষেবা  শুরু হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের শস্য শ্যামলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। সোনারপুর ব্লক প্রাণিসম্পদ  বিকাশ  বিভাগের  আধিকারিক  কৃষ্ণপ্রসাদ  মুখোপাধ্যায় এবং কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার কাজ চলছে। কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে ‘ফার্মার  প্রডিউসার অর্গানাইজেশন’-এর (এফপিও)  সদস্যদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিক্রিবাটা নিয়ে  প্রচার চালানোর পর এফপিও’র  সদস্যরা  আবাসনে আবাসনে গিয়ে  ডিম  ও  মাংস  বিক্রি  করবেন।
বাজারদরের  চেয়ে  কিছুটা কম দামেই পণ্যগুলি বিক্রি করা হবে  বলে  জানা  গিয়েছে। তারপরও ‘প্রাণী পালক’রা  ভালো আয় পাবেন। কারণ, তাঁদের পণ্য ফড়েদের মাধ্যমে বাজারে বিক্রির প্রয়োজন হবে না আর। জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ  বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর নিশীথকুমার পান্ডা  বলেন, ‘এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  সফল হলে অন্যান্য জায়গায়ও এই পদ্ধতি চালু করা হবে।’ আবাসগেুলিকেই কেন বেছে নেওয়া হল? সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিকের কথায়,  ‘আসলে এক  জায়গায় অনেক ক্রেতা পাওয়া যাবে। ফলে প্রাণী পালকদের পণ্যসামগ্রী বেচতে সুবিধা হবে।’ এফপিও’র প্রধান নিয়তি মণ্ডল বলেন, ‘নতুন এই উদ্যোগের জন্য সদস্যরা খুবই উৎসাহী। আমাদের উৎপাদিত মাংস ও ডিম সরাসরি ক্রেতাদের বিক্রি করলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। এখন আমাদের থেকে ব্যবসায়ীরা এসব কিনে বাজারে বিক্রি করেন। আমরা সরাসরি বেচতে পারলে লাভ কিছুটা বাড়বেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ