উজির আলি, চাঁচল: হাতের চায়ের কাপে হালকা ধোঁয়া উঠছে। অন্য হাতে কলম। পাকা চুল, চোখে চশমা। ৭২ বছর বয়সেও অক্লান্ত। এলাকায় পরিচিত হাকিম চাচা নামে। মালদহের চাঁচল ২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুর বুথের এই মহম্মদ হাকিমুদ্দিন এখন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে মুশকিল আসান। এসআইআর নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ আতঙ্কে, আশার আলো হয়ে পথ দেখাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা গ্রামের মোড়ে টেবল পেতে তিনি পূরণ করে চলেছেন বাসিন্দাদের ইনিউমারেশন ফর্ম। রাতেও বিরাম নেই। বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষরা। পাশের চণ্ডীপুর ও কানাইপুর এলাকার বাসিন্দারাও ছুটে আসছেন তাঁর কাছে। হাকিমুদ্দিনের কথায়, আমার জ্ঞান যদি মানুষের কাজে লাগে, সেটা পরম তৃপ্তির। তাই বাড়িতে বসে না থেকে ফর্ম পূরণ করে সহায়তা করছি।
গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা শিক্ষায় পিছিয়ে। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জটিল ফর্ম পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। মানুষজনকে ফর্ম নিয়ে ছুটোছুটি করতে দেখে এগিয়ে আসেন হাকিম। তিনদিন ধরে কোনও টাকা না নিয়ে ফর্ম পূরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএলওর কাছ থেকে নিয়মাবলী জানার পাশাপাশি ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিজেকে আপডেট রাখছেন তিনি। জানিয়েছেন, দৈনিক প্রায় ৩০ জন ফর্ম পূরণ করছেন। স্থানীয় গোয়ালপাড়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করার পর আর এগননি হাকিম। সরকারি চাকরির সুযোগ থাকলেও কৃষিকাজে যুক্ত হন। তবে শিক্ষার আলো থেকে সরে যাননি। এলাকায় একসময় টিউশন পড়াতেন। নার্সারি স্কুলের শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি নাইট স্কুল চালিয়ে পড়াতেন এলাকার নিরক্ষরদের। বয়সের ভারে বেশি দৌড়ঝাঁপ করতে না পারলেও, গ্রামের মানুষদের বিভিন্ন আবেদনপত্র, সরকারি নথি ও অভিযোগপত্র লিখে সাহায্য করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলফাতুন বিবির কথায়, ছেলে দিল্লিতে কাজ করে। লেখাপড়া জানি না বলে ফর্ম পূরণ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। হাকিমবাবুর কাছে যেতেই সব সমস্যা মিটে গিয়েছে। তাঁর প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্ট মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সিও। বলেন, এসআইআর নিয়ে গ্রাম্য এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক রয়েছে। হাকিমবাবু যেভাবে এই বয়সেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, প্রশংসার ভাষা নেই।