বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ‘কাকা-ভাইপো রাজ’! এই নতুন শব্দবন্ধ নিয়ে বরানগরের বিজেপির অন্দরে কার্যত মুষলপর্ব শুরু হয়েছে বরানগরে। বরানগরের নিয়ন্ত্রণ কাকা করবেন কি না, তানিয়ে প্রশ্ন তুলে খোদ বিজেপি নেতা-কর্মীরা সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন। কেউ কেউ আবার কাকার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। এমনকি, তৃণমূলের বিতর্কিত কাউন্সিলারদের দলে নেওয়া কিংবা তাঁদের সঙ্গে ‘সেটিং’এর ক্ষেত্রেও ‘কাকা ও ভাইপো’ গোপন ষড়যন্ত্র করেছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর এনিয়ে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যদিও ‘কাকা ও ভাইপো’ আসলে কে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়।
বরানগর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ছিলেন বর্তমান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর উপনির্বাচনে জয়লাভ করে বিধায়ক হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষকে। পরিবর্তনের ভোটে সায়ন্তিকাদেবীকে হারিয়ে বরানগরের বিধায়ক হয়েছেন সজল ঘোষ। তাপসবাবুর সঙ্গে সজলবাবুর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রকাশ্যে তিনি বহুবার তাপসবাবুকে তাঁর অভিভাবক ও কাকু বলে সম্বোধন করেছেন। তাপসবাবুও ভাতুস্পুত্রের মতে স্নেহ করেন সজলবাবুকে। বাস্তবে ‘কাকা-ভাইপো’র এই সম্পর্ক বেশ গভীর। এই আবহে বরানগরে একাধিক বিজেপি নেতা সমাজমাধ্যমে ‘কাকা-ভাইপো’ শব্দবন্ধ নিয়ে তোপ দাগতে শুরু করেছেন। বরানগরের পুরনো বিজেপি নেতা রাজীব মিশ্র সমাজমাধ্যমে লিখেছেন—‘বরানগরের বেশ কিছু কাউন্সিলার টাকার থলি নিয়ে ঘুরছে বিজেপিতে যোগ দিতে। কথাবার্তা ‘কাকা’র সঙ্গে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। ‘ভাইপো’র নির্দেশ ও ভাগের অপেক্ষায়।’ রাজীববাবুর এমন বহু পোস্ট সমাজমাধ্যমে রয়েছে। দলের এক শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ সুমন কর লিখেছেন, বরানগর কি কুমির কাকু চালাচ্ছে? সকল সহযোদ্ধারা এক হও। আমরা কুমির কাকুকে বরানগর চালাতে দেব না।’ তাতে কোনও বিজেপি কর্মী লিখেছেন, দ্রুত জনসমর্থন কমছে। কেউ লিখেছেন, যা চলছে তাতে ভালো তৃণমূলের দাদা-ভাই বা প্রেমিকরা না প্রার্থী হয়ে যায়। এই আবহে বরানগরের তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসু সহ প্রায় ৮-৯ জন কাউন্সিলার কালীঘাট তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতে হাজির না হওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে। শহরবাসীর দাবি, তাঁরা সমাজমাধ্যমে ভালো তৃণমূল সাজছেন।
‘কাকা-ভাইপো’কে নিয়ে প্রশ্নে রাজীব মিশ্র কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বলেন, অন্যান্য দলের সুবিধাভোগীরা দলের নাম করে ধমকচমক দিচ্ছে। পুরনো কর্মীদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। দল নিশ্চয়ই সবকিছু দেখছে। সুমন কর বলেন, দলের অন্দরের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করব না। বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, আমি সমাজমাধ্যমে এমন কোনও পোস্ট দেখিনি। তাই মন্তব্য করব না। তবে তাপসবাবু ছাড়াও আমি বহু জনকে কাকু বলি। এটুকু বলতে পারি, বরানগরে কোনো তৃণমূলকে বিজেপি হতে দেব না।