সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ‘দাবিহীন’ অর্থরাশির পরিমাণ প্রায় ১০১ কোটি! শিলিগুড়ি ও দিনহাটায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জিপিএফ অ্যাকাউন্ট যাচাই করে এমন তথ্য পেয়েছে শিক্ষাদপ্তর। প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে ওই অর্থের কোনও দাবিদার নেই। তাই ওই অর্থ সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রেখেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতো দু’বছর ওই অর্থ সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত থাকবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে অর্থের দাবিদার মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর দাবিদার না মিললে রাজ্য সরকার যা নির্দেশ দেবে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।
জুনিয়র হাই, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের জিপিএফ অনলাইন করার প্রকল্প উত্তরবঙ্গের মধ্যে প্রথম বাস্তবায়িত হয় শিলিগুড়িতে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে এখানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এখানে স্কুল ১১০টি। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পিএফ অ্যাকাউন্টে দাবিদারহীন প্রায় ১০০ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। ওই অ্যাকাউন্টের শিক্ষকরা প্রয়াত। তাঁদের মধ্যে একাংশের কোনও বংশধর নেই। যার জেরে অ্যাকাউন্টগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে গচ্ছিত অর্থ দাবিদারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আবার প্রয়াত কোনও কোনও শিক্ষকের ছেলেমেয়ে প্রতিষ্ঠিত। কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে বা অন্য দেশে থাকেন। প্রয়াত বাবার পিএফের সঞ্চিত টাকা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ নেই।
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার সভাপতি সুপ্রকাশ রায় বলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে শিক্ষকদের পেনশন ব্যবস্থা অনলাইন করা হয়েছে। এখন অনলাইন হয়েছে জিপিএফ। এতে শিক্ষাদপ্তরের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বেড়েছে। তাই অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পিএফ থেকে উদ্ধার হওয়া দাবিদারহীন অর্থ রাজ্যে ফেরত গিয়েছে।
কয়েকদিন আগে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার স্কুলগুলিতে অনলাইন জিপিএফ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট মহকুমায় স্কুলের সংখ্যা ১২৪টি। শিক্ষকদের পিএফ অ্যাকাউন্টে দাবিদারহীন অর্থের পরিমাণ সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকা।
শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে শিলিগুড়ির দাবিদারহীন অর্থের হদিশ মেলে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে সেই অর্থ ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে থাকবে। আর দিনহাটা মহকুমায় দাবিদারহীন অর্থের হদিশ মিলেছে চলতি অর্থবর্ষে। তাই সেই অর্থ সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকবে ২০২৭-’২৮ অর্থবর্ষ পর্যন্ত। নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে মৃত শিক্ষকদের আত্মীয়রা ওই অর্থের দাবি জানাতে পারেন। তথ্য ও উপযুক্ত প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখার পর সেই অর্থ দাবিদারের কাছে প্রদান করা হবে। শুধু শিলিগুড়ি ও দিনহাটা নয়, এ ধরনের ঘটনা কমবেশি প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে। সেই হিসেব কষার কাজ চলছে। তবে জিপিএফ নিয়ে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আগামীতে এ ধরনোর সমস্যা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ হবে বলে আশাবাদী। এখন উপভোক্তারা অনলাইনেই সহজে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে নমিনির নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।