রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সংকেত দিলেও বক্সা পাহাড়ে বা বক্সা ফোর্ট যাতায়াতে ঘোড়া চালুর ভাবনা আপাতত বিশবাঁও জলে। কারণ একটাই, বক্সা ফোর্টে যাওয়ার বাহন হিসেবে প্রস্তাবিত ঘোড়া পরিষেবা চালুর ব্যাপারে কেন্দ্রের কোনও ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। ফলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গল খুললেও দেশ বিদেশের পর্যটকদের ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে কোনওভাবেই বক্সায় যাওয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে স্থানীয় পর্যটন মহল চরম হতাশ।
এ বিষয়ে বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, বনদপ্তরকে অনেক নিয়মকানুন মেনে কাজ করতে হয়। বক্সায় ঘোড়া চালুর বিষয়ে কেন্দ্রের ছাড়পত্র দরকার। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এখনও বক্সায় ঘোড়া চালুর কোনও ছাড়পত্র আমাদের হাতে আসেনি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বনমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার এখনই সমতল থেকে ২৮০০ ফুট উচ্চতায় হিমালয়ের সিঞ্চুলা রেঞ্জে থাকা বক্সায় ঘোড়া চালুর কোনও সম্ভবনা নেই। প্রসঙ্গত,শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বক্সায় ঘোড়া চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের উদ্যোগপতি অরিন্দম ঘোষ। কেন্দ্র ছাড়পত্র না দেওয়ায় তিনিও হতাশ।
মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সংকেত দেওয়ার পর বনদপ্তরের পক্ষ থেকে অরিন্দমবাবুকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। বক্সায় ঘোড়া চালুর বিষয়ে বনদপ্তর অরিন্দমবাবুকে তাঁর পরিকল্পনার কথা লিখিতভাবে জানাতে বলেন। অরিন্দমবাবু্ বনদপ্তরকে জানিয়েছিলেন, বক্সায় যাতায়াতে তিনি নিজেই পাঁচটি ঘোড়া কিনে দেবেন। ঘোড়া চালানোর জন্যই পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় স্থানীয় ২০ জন যুবককে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার অরিন্দমবাবু বলেন, আমি কিছু প্রস্তাব দেওয়ার পর বনদপ্তরের পক্ষ থেকে আর কোনও সাড়া মেলেনি। এখন শুনছি, বক্সায় ঘোড়া চালুর বিষয়ে কেন্দ্রের ছাড়পত্র নাকি আসেনি। আমি হতাশ। জেলার পর্যটনের প্রসারে ও বক্সার স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের ভাবনা থেকেই আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলাম।