Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সব বুথে বিজেপির এজেন্ট দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, কালীগঞ্জ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি সব শিবিরেই

আজ কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন। কিন্তু, ভোট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই বিজেপিকে জোর ধাক্কা খেতে হচ্ছে।

সব বুথে বিজেপির এজেন্ট দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, কালীগঞ্জ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি সব শিবিরেই
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আজ কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন। কিন্তু, ভোট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই বিজেপিকে জোর ধাক্কা খেতে হচ্ছে। বিধানসভার ১৮০টি বুথে এজেন্ট দিচ্ছে বিজেপি। অর্থাৎ, বিধানসভার ৪০শতাংশের বেশি বুথেই গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে কোনও এজেন্ট থাকবে না। এমনটাই দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। যার ফলে বিধানসভাজুড়ে সব বুথে এজেন্ট দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছে গেরুয়া শিবিরে।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের দাবি, কালীগঞ্জ বিধানসভায় সংখ্যালঘু বুথগুলিতে এজেন্ট দিতে গিয়ে বিজেপিকে হোঁচট খেতে হয়েছে। নির্বাচনের দিন এজেন্ট দিতে না পারার এই ব্যর্থতা বিজেপিকে ভোটযুদ্ধে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনেকেই মনে করছেন, কালীগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাই এজেন্ট দিতে না পারার অন্যতম কারণ। পরাজয় নিশ্চিত ধরে নিয়েই বুথে এজেন্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকছে গেরুয়া শিবির। এই বলে কটাক্ষ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূল ১০০শতাংশ বুথেই নিজেদের এজেন্ট রাখছে। সেইমতো বুধবার উভয় শিবিরেই চূড়ান্ত ব্যস্ততা ছিল। সকাল থেকেই বুথের এজেন্টদের ফর্ম বিলি করা হয়। এদিন বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ বলেন, আমরা ১৮০টি বুথে এজেন্ট দিচ্ছি। মানুষের মধ্যে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। তারা নিজেরাই বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ছে। হিন্দু এলাকায় আমাদের ভোট খুব ভালো হবে।
কয়েকদিন আগে নির্বাচনী প্রচারে এসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে বলতে শোনা যায়, কালীগঞ্জ বিধানসভায় মুসলিম ভোট বেশি রয়েছে।‌ সেই ভোট ভাগ হলেই বিজেপি এই আসন জিতবে। রাজ্য সভাপতির এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সংগঠন কিংবা মানুষের পরিষেবা উন্নয়নের থেকেও মেরুকরণের ভোট ভাগাভাগির দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিজেপি। ভোটযুদ্ধে বৃহৎ অংশের মানুষের সমর্থন না পাওয়া নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত গেরুয়া শিবির। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই কেন্দ্র থেকে ৬৪হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল। বেশকিছু পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির।‌ যার মধ্যে রয়েছে, গোবরা, মাটিয়ারি, ফরিদপুর ও কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত। উপনির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই, বিজেপি এই পঞ্চায়েতগুলিতে ভোট প্রচারে জোর দিয়েছিল। যা দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছে।
যদিও সেই রাস্তায় হাঁটেনি ঘাসফুল শিবির। লোকসভার ফলাফল যাই হোক না কেন, সমস্ত পঞ্চায়েতকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত লোকসভায় লিড না থাকা পঞ্চায়েতেও সেলিব্রেটিদের নিয়ে এসে প্রচারে ঝড় তুলেছে ঘাসফুল শিবির। তবে তৃণমূলের বিশেষ নজর রয়েছে বিধানসভার হাটগাছা ও বড়চাঁদঘর পঞ্চায়েতের প্রতি। এই দু’টি পঞ্চায়েত থেকেই গত লোকসভায় ২০হাজার লিড হয়েছিল। উপনির্বাচনে সেই লিড বাড়ানোই লক্ষ্য তৃণমূলের। তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ বলেন, দীর্ঘ প্রচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আমরাও তাকিয়ে রয়েছি মানুষের রায়ের দিকে। বিগত কয়েকদিনে মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। আশা রাখছি ভোটবাক্সেও তার প্রভাব পড়বে।
এদিকে, কংগ্রেস অনেকটাই বামেদের উপর নির্ভরশীল। বাম-কংগ্রেসের দীর্ঘ টালবাহানার পর শেষ পর্যন্ত প্রার্থীকে মেনে নেয় সিপিএম। কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখ বলেন, আমরা ১০০শতাংশ বুথেই এজেন্ট দিয়েছি। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে কংগ্রেস এবার উপনির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ