ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর: সপ্তাহখানেক আগে ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিঙ্গাপুরের হাসপাতাল থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। তারপরেই নৈরাজ্য শুরু হয় বাংলাদেশে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, খুন, ছায়ানটে ধ্বংসলীলা চালানো, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের নামে তাণ্ডব দেখাতে শুরু করে মৌলবাদীরা। যদিও সেই হামলা হলেও মাথা নত করব না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো সংবাদপত্র। তাদের দাবি, এই হাদির উপর আক্রমণে যোগ রয়েছে ভারতের। তাই ভারতীয় দূতাবাসের বাইরেও বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ভারতীয় উপ-দূতাবাসে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় মৌলবাদীরা। ছোড়া হয় ইট-পাটকেল। উপ-দূতাবাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টাও করা হয়। ভারত-বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে রাজশাহীর ভারতীয় উপ-দূতাবাসের হামলা করে মৌলবাদীরা। তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
দু’পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। এছাড়াও বাংলাদেশে দিকে দিকে অশান্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। ‘গান্ধারী’ মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর উপদেষ্টা সরকার নিশ্চুপ। শুধুমাত্র শান্তির বার্তা দিয়েই বসে রয়েছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় বাংলাদেশকে সংযত হতে পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস তাঁর মুখপাত্র মারফত জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। যেহেতু আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন রয়েছে, তাই তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। নির্বাচনের উপযোগী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সমস্ত পক্ষকে হিংসা থেকে বিরত থাকতে হবে, উত্তেজনা কমাতে হবে এবং সংযত হতে হবে।’ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দাও করেছেন গুতেরেস। ইতিমধ্যেই ঢাকায় মরদেহ পৌঁছেছে হাদির। সূত্রের খবর, আজ, শনিবারই মানিক মিঁয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সেখানে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকরা। পরিস্থিতির কথা মাথাতে রেখে গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।