সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বুধবার সোনামুখী বিডিও অফিস চত্বরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যের স্টল চালু হল। ‘উদ্যামিনি’ নামে ওই স্টলের এদিন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাঁকুড়া ডিআরডিসির প্রকল্প আধিকারিক দেবজিৎ বসু। উপস্থিত ছিলেন সোনামুখীর বিডিও প্রিয়াঙ্কা হাটি, সোনামুখী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুশল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখা, ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় ‘উদ্যামিনি’ চালু করা হয়। স্টলে ঢেঁকি ছাটা চাল থেকে শুরু করে ডাল, তেল, মশলা সহ সাংসারিক ক্ষেত্রে নিত্য প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী পাওয়া যাবে। বাজারের থেকে কিছুটা সস্তায় এবং খাঁটি জিনিস পাওয়া যাবে বলে উৎপাদক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের দাবি।
বাঁকুড়া জেলা ডিআরডিসির প্রকল্প আধিকারিক বলেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা নিজেরা বাড়িতে বসে নানা ধরনের হাতের কাজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য তৈরি করে থাকেন। অত্যন্ত যত্ন সহকারে তাঁরা তা তৈরি করেন। তবে এককভাবে তা খুব একটা বাজার করার সম্ভব হয়নি। সেই জন্য সম্মিলিতভাবে তাঁরা যাতে জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারবেন তার জন্য স্টল দেওয়া হয়েছে। এতে মহিলাদের উদ্যোগ আরও বাড়বে।
সোনামুখীর বিডিও বলেন, আমাদের সরকার সবসময় মহিলাদের স্বনির্ভরতার উপর জোর দিয়েছে। তাঁদের সবরকমভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্লক চত্বরে তাঁদের জন্য একটি স্টল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এদিন তাঁর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
উদ্যামিনি খোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জোনাল হেড গৌতম সূত্রধর বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে মহিলাদের স্বনির্ভরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জন্য সরকারের পাশাপাশি আমরাও তাঁদের এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছি। মহিলাদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসার কৌশলও শেখানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখী ব্লকের পাঁচাল অগ্রণী সঙ্ঘ, কোচডিহি প্রগতি সঙ্ঘ, মানিকবাজার বোমশঙ্কর ও ডিহিপাড়া মোনালিসা এই চারটি সঙ্ঘ সমবায়ের সদস্যরা পালা করে প্রতিদিন উদ্যামিনি স্টলে বসবেন। সঙ্ঘের সদস্যরা বলেন, আমরা ঢেঁকি ছাটা চাল থেকে শুরু করে মশলা সহ অন্যান্য সমস্ত সামগ্রী নিজেরা খুব যত্ন সহকারে তৈরি করি। কোনওরকম কেমিক্যাল মেশানো হয় না। প্রতিটি দ্রব্য সুন্দর প্যাকেজিং করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ভালো সাড়া পেয়েছি। আশা করি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারব।