মুম্বই: ইন্ডিয়া ব্লকের মধ্যে ভাঙন আরও চওড়া হল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে চেয়ে জোর সওয়াল উদ্ধব থ্যাকারে পন্থী শিবসেনার। বুধবার দলের মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ঘর সামলাতেই নাজেহাল। এই অবস্থায় বিজেপি বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ নেতৃত্বের ব্যাটন তৃণমূল নেত্রীর হাতে তুলে দেওয়া দরকার। এব্যাপারে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিনের কথাও বলা হয়েছে।গত লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ তৈরি হয়। তবে প্রথম থেকেই এই জোটের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এবার সেই প্রশ্নটাই খুঁচিয়ে তুলল উদ্ধবপন্থী শিবসেনা। ‘অন্তরাত্মার কণ্ঠ নিয়ে বিভ্রান্তি- মমতা, স্ট্যালিন না অন্য কেউ?’ এমনই শিরোনামে ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে জোটের নেতৃত্বে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘নেতৃত্বের প্রশ্ন নতুন করে উঠছে। এই প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।’ সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা মণিশংকর আইয়ার বলেন, কেরলে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার ফিরে আসতে পারে। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু বিরোধী জোটের নেত্রী হিসাবে মমতাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। এসমস্ত উদাহরণ তুলে ধরে শিবসেনার মুখপত্রে বলা হয়েছে, অন্তর্কলহে দীর্ণ কংগ্রেস ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্ব ক্ষমতা হারিয়েছে।‘সামনা’য় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ইন্ডিয়া’ জোট তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেসই রয়েছে এই জোটের নেতৃত্বে। শিবসেনার প্রশ্ন, কংগ্রেস কি কখনও তাদের ভূমিকা এবং অবদান খতিয়ে দেখেছে? পশ্চিমবঙ্গে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ছে। কেরলে তাদের প্রতিপক্ষ বামেরা। মহারাষ্ট্রে সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে তারা একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে বিজেপি। বিহারে আরজেডির সঙ্গে জোট করেও তারা ভালো ফল করতে ব্যর্থ। একইসঙ্গে শিবসেনার পরামর্শ, পাঁচ রাজ্যের ভোট ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা নয়। বিরোধীদের এখনই ‘জেগে উঠতে’ হবে। বিজেপিকে হারাতে বিরোধীদের এখনই আলোচনা শুরু করা দরকার।