Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্যাব জালিয়াতি কাণ্ডে মাথাদের খোঁজে ফের চোপড়া রওনা দিল জেলা পুলিস

ট্যাব জালিয়াতি কাণ্ডে মাথাদের খোঁজে ফের চোপড়া রওনা দিল জেলা পুলিস
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ট্যাব জালিয়াতির মাথাদের খোঁজে ফের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া রওনা দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিসের বিশেষ টিম। চোপড়া থেকে ইতিমধ্যে চারজন ধরা পড়েছে। অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এক সিএসপি কর্ণধার ধরা পড়েছে। তার দেওয়া ৪২টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২৮টিতে ট্যাবের টাকা ঢুকেছে। ধৃত পাঁচজনকে জেরা করে ওই চক্রের মাথাদের খোঁজে চোপড়া রওনা দিয়েছে জেলা পুলিসের বিশেষ দল। ধৃত পাঁচজনই এই মুহূর্তে পুলিস হেফাজতে রয়েছে। তাদের জেরা করে ট্যাব জালিয়াতির গভীরে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস।
Advertisement
গত ৩০অক্টোবর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) শুভাশিস মিত্রের দায়ের করা এফআইআ঩রের ভিত্তিতে ট্যাব জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত শুরু করে পুলিস। বাংলার শিক্ষা পোর্টাল হ্যাক করে সেখানে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নম্বর এন্ট্রি করার ঘটনায় পুলিস চারটি মোবাইল নম্বরের হদিশ পায়। বিশেষ নম্বরের সূত্র ধরে পুলিস চোপড়া থেকে মোবারক হোসেন, সাদ্দিক হোসেন এবং আসিরুল হককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা নিজে এবং তাদের পরিবারের নামে ওইসব সিমকার্ড কিনেছিল। সেই ফোন ঘন ঘন ব্যবহার করেছিল নুর আলম। ১৫নভেম্বর নুরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মোবারকদের জেরা করে ট্যাব জালিয়াতির ঘটনায় কয়েকজন মাথার নাম পাওয়া গিয়েছে। আপাতত তাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে বাংলার শিক্ষা পোর্টাল হ্যাক করে শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ২৩০জন পড়ুয়ার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। এপর্যন্ত ৩৪টি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে সামনে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এই ঘটনায় চোপড়ার গ্যাং অপারেশন করেছে। অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার। ওইসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য পুলিসের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফ্রিজ করার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে পুলিসকে জানিয়েছে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে ধৃত সিএসপি কর্ণধার সুব্রত বসাককে জেরা করে পুলিস জেনেছে, সাইবার প্রতারকদের মোট ৪২টি অ্যাকাউন্ট দিয়েছিল। তারমধ্যে ২৮টিতে ট্যাবের টাকা ঢুকেছে। 
এডিজি সিআইডি-২ বিশাল গর্গ এবং এডিজি সাইবার হরিকিষণ কুসমাকারকে মাথায় রেখে ট্যাব জালিয়াতির ঘটনায় স্পেশাল টিম গড়েছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি জেলা থেকে এফআইআরের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট সংগ্রহ করছে সিআইডি। এই অবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস ট্যাব জালিয়াতির তদন্তে অনেকটা এগিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা পাঁচজন পুলিস হেফাজতে। মাথাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে পুলিস। অন্যান্য জেলার পুলিসের টিমও চোপড়ায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। জামতাড়া গ্যাংকে অনুসরণ করেই ‘চোপড়া গ্যাং’ কাজ করছে বলে পুলিসের বক্তব্য। এমনকী, ওই কাজে প্রশিক্ষকও ছিল জামতাড়া গ্যাং। বিহার, ঝাড়খণ্ডের অ্যাকাউন্ট নম্বরেও টাকা গিয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে এই অপারেশন গাইড করা হয়েছে বলে অনুমান। ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ