সংবাদদাতা, বোলপুর: অন্ধকার রাস্তা। বাইকের হেড লাইটে যতদূর দেখা যায় ততটাই দেখা যাচ্ছে। রাস্তার পাশে যে ‘মৃত্যুফাঁদ’ পাতা, সেটা আর নজরে পড়েনি বাইক আরোহী দুই যুবকের। ‘মৃত্যুফাঁদ’ বলতে জড়ো করে রাখা কেন্দ্রীয় আধা সরকারি সংস্থার গ্যাস সরবরাহের পাইপ। আধো-আঁধারি পথে দ্রুত বেগে এসে সেই পাইপে ধাক্কা। মুহূর্তেই দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুই বাইক আরোহীর দু’টি বাঁ পা। সোমবার রাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল দুবরাজপুর থানা সংলগ্ন জয়দেব মোড়। ঘটনার পর তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দফায় দফায় অবরোধ, বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।
জানা গিয়েছে, ওই দুই যুবকের নাম রঞ্জন বাদ্যকর ও লক্ষ্ণণ বাউড়ি। দুজনেরই বাড়ি দুবরাজপুর ব্লকের পদুমা পঞ্চায়েতের খন্ডগ্রামে। কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনার পর তাঁদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরেই রাস্তার পাশে বিপজ্জনকভাবে পাইপ ফেলে রাখার প্রতিবাদে শামিল হন স্থানীয়রা। দফায় দফায় পথ অবরোধ করেন তাঁরা। অভিযোগ, দিনের পর দিন পাইপগুলি রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তাই এমন ঘটনা ঘটল। দুই যুবককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তোলেন বিক্ষোভকারীরা। আধা সরকারি সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই দুই বাইক আরোহীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় গ্যাস লাইন পাতার কাজ চলছে। সেই কারণেই ইলামবাজার থেকে দুবরাজপুর পর্যন্ত রাস্তার একপাশে বড় আকারের পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। অভিযোগ, প্রতিটি পাইপের মুখ খোলা। সামন্য অন্য মনস্ক হলেই বিপত্তি। বিশেষ করে রাতে বাইক চালকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। রঞ্জন-লক্ষ্মণের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। রঞ্জন সবজি বিক্রেতা। লক্ষ্মণ চাষবাসের কাজ করেন। এদিন রাতে জয়দেবে কাজ সেরে দু’জনে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা। এক পাশ ধরে বাইক চালাচ্ছিলেন। জয়দেব মোড়ে রাস্তার পাশে থাকা ওইসব পাইপের মুখে ঘঁষটে যায় দু’জনের বাঁ পা। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায় পা দু’টি। দুর্ঘটনার পর তড়িঘড়ি স্থানীয়রা দু’জনকে সিউড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পূর্ব বর্ধমানের মলানদীঘি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপগুলি রাস্তার ধারে রাখা হলেও যথাযথ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়নি। পাইপগুলিতে যদি রেডিয়াম স্টিকারও লাগানো থাকত, তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই দুই যুবকের পা অপারেশন করে জোড়া লাগানো যায়নি। ফলে, দু’জনেই হারাতে বসেছে একটি করে পা। তাঁদের শারীরিক অবস্থাও সঙ্কটজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পরই দুবরাজপুর থানা সহ ইলামবাজার থানা ও ব্লক প্রশাসন দুর্ঘটনা রুখতে তৎপর হয়েছে। ওই সংস্থাকে দ্রুত রাস্তা থেকে পাইপ সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইলামবাজারের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার। কেন্দ্রী আধা সরকারি ওই সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, সংস্থার তরফে ওই দুই যুবকের যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পাইপগুলিও দ্রুত সরানোর কাজ চলছে। মঙ্গলবার সকালের জয়দেব মোড়। নিজস্ব চিত্র