রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রেল-রাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ হতে শুরু করেছে। স্বয়ং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৬ জুন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন তিনি। এই আবহে এবার প্রতিবাদের নামে রেল অবরোধে ইতি পড়তে চলেছে বঙ্গে! আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রে এবার রেল অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতীয় রেল আইনের (১৯৮৯) ১৭৪ ধারা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি দণ্ডনীয় অপরাধ। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিবাদের সময় রেললাইনে বসে থাকা, হোস পাইপ নষ্ট করা বা প্রয়োজনীয় সিগনালিং সরঞ্জামের ক্ষতি করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে অবরোধকারীর ২ বছর পর্যন্ত জেল, ২ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুটোই হতে পারে। সেই আইনই এবার কড়া হাতে লাগু করা হবে রাজ্যে।
পূর্ব রেলের হাওড়া, শিয়ালদহসহ চারটি ডিভিশনে প্রতিবাদের নামে হামেশাই ঝান্ডা হাতে রেললাইন অবরোধের ঘটনা সামনে আসে। এই ইস্যুতে রেলের পরিসংখ্যানও চমকপ্রদ। শুধুমাত্র পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশনে গত অর্থবর্ষে প্রায় ২৯টি রেল অবরোধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। রেলের তথ্য বলছে, পূর্ব রেলে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে সবচেয়ে বেশি ট্রেন অবরোধ হয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশনে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই ডিভিশনে এই সময়কালে ২২টি অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। তারপর রয়েছে যথাক্রমে মালদহ ডিভিশন (৪টি), হাওড়া (২টি) এবং আসানসোল (একটি)। এছাড়াও গত অর্থবর্ষে রেলের বিভিন্ন ইউনিয়নের তরফে ২০টি সাধারণ ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা চূড়ান্ত দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে নবান্নের এক শীর্ষ আমলা বলেন, ‘প্রতিবাদ-অবরোধের নামে আম জনতার দুর্ভোগ বাড়ানো হলে এবার থেকে তা অত্যন্ত কড়াভাবে মোকাবিলা করা হবে।’ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে ভারতবর্ষের বুকে প্রথম বাংলাতেই জঙ্গি আন্দোলন সংগঠিত করা হয়েছিল। আস্ত ট্রেন জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে রেললাইনের ক্ষতিসাধন, তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। ওই অফিসারের দাবি, বিগত সরকারের প্রশ্রয়েই আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনমন ঘটেছিল। নতুন সরকার এসেই নীতির বদল করেছে। পুলিশ-প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে আইন মোতাবেক কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রেই রেলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার পরমার্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে। সেই মতো এবার রেল-রাজ্য যৌথভাবে ট্রেন অবরোধের বিরুদ্ধে কড়া ভূমিকা নেবে।