নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকার সোমবার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করবে বিধানসভায়। তার আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে একটিই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে—‘কত পার্সেন্ট ডিএ দেবে?’ নবান্নের আনাচ-কানাচ থেকে দূর জেলার সরকারি অফিস—সর্বত্র চলছে জল্পনা। সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের যা হাল, তাতে বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ এক লপ্তে মিটিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করতে পারেন। বাকি ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ ডিএ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মিটিয়ে দেওয়া হবে কি? তুমুল কৌতূহল রয়েছে কর্মী মহলে। অনেকে মনে করছেন, তিনটি পর্যায়ে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। না হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৭-এর জানুয়ারিতে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা সম্ভব হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ডিএ খাতে বকেয়া ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার মধ্যে রাজ্য মাত্র ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা মিটিয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া পেয়েছেন বড়ো সংখ্যক কর্মী ও পেনশনভোগী। এই খাতের বাকি ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা মেটানোর চাপ রয়েছে রাজ্যের কাঁধে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ’র ফারাক মেটানোর জন্য খরচ। প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন, ডিএ মেটাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরি করছে রাজ্য। এই অবস্থায় রাজস্ব বৃদ্ধিই একমাত্র পথ রাজ্যের। তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়। কারণ, জিএসটি বাবদ আয় বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি ছুঁয়েছে। এখনই এক লাফে সেই আদায় বৃদ্ধি কার্যত অসম্ভব। আবগারি খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীতিগত ইস্যু থাকতে পারে সরকারের। ফলে সরকারের হাতে এখন উপায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ‘লিকেজ’ আটকানো এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ বাবদ রাজস্ব বৃদ্ধি। সেই সঙ্গে করের হার না বাড়িয়ে দীর্ঘদিন অনাদায়ী রাজস্ব আদায় করে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং রাজ্যের অধীনস্ত স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। এসবই সময়সাপেক্ষ। তাই প্রথম বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উপরেই মূলত ভরসা রাখতে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে। দপ্তর ধরে ধরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ বিশ্লেষণ থাকছে বাজেটে। স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ দপ্তরের বরাদ্দ বাড়তে চলেছে। বিগত সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট ঘোষণা করেছিল। নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এই অঙ্ক ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটির গণ্ডি টপকাবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পগুলির উপভোক্তা তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। ফলে বহু ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তা বাদ পড়বেন। আবার ‘বাংলার বাড়ি’, ‘কৃষকবন্ধু’, ‘বাংলা শস্যবিমা’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘যুবসাথী’র মতো রাজ্যের প্রকল্পের জায়গায় চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প। সেক্ষেত্রে এই সমস্ত খাতে খরচের ভার বহন করতে হবে না রাজ্যকে। ফলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ছাড়া অন্যান্য সামাজিক প্রকল্প বাবদ খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই পরিস্থিতিতে ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা সামাল দিতে রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি প্রয়োজন। তার জন্য পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ অনেকটাই বাড়াতে চলেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে পাঁচ বছরের পরিকাঠামো উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে।