নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের বদলি, পদোন্নতি ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারেন তিনি, এমনই ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ধৃত জয় কামদার। তার বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখলের মামলা রয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস শুধু নয়, পুলিশ, আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল জয়ের। দুর্নীতির মাধ্যমে ৪৭.৮৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জমি দখলের মামলায় জমা দেওয়া চার্জশিটে এমনটাই দাবি করেছে ইডি।
চার্জশিটে ইডি জয়ের সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিকের চ্যাটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে। সেখানে ওই অফিসার ওসি হওয়ার পর জয়কে লিখেছেন, আপনার স্নেহ, ভালোবাসা ও আশীর্বাদের কারণেই ওসি হয়ে কাজে যোগ দিতে পারলাম। ওই অফিসার ইনসপেক্টর হন ২০২২ সালে। এক বন্ধুর মাধ্যমে ওই ইনসপেক্টরের সঙ্গে আলাপ হয় জয় কামদারের। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, জয়ের বাড়িতে কালীপুজোয় একাধিক পুলিশ কর্তা, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যেতেন। একইসঙ্গে ইডি চার্জশিটে জানিয়েছে, বজবজ এলাকার এক ফ্লাই অ্যাশ ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছিল জয়। তিনি রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ করলেও কোনো পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। উলটে কালীঘাট থানার এক আধিকারিক বদলি হয়ে রবীন্দ্র সরোবর থানায় এলে প্রভাব খাটিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে জয়। বজবজের ওই ব্যবসায়ী লালবাজারে গেলেও সুরাহা মেলেনি। উলটে আপসে মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। এমনকি, বেহালার এক ব্যবসায়ীর অভিযোগও গুরুত্ব দেয়নি থানা। এন্টালি থানায় ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করে জয়। চার্জশিটে ইডি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।