নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সাততলায় ওঠার আগেই ছিঁড়ে গেল ক্যাটেলের তার। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচে পড়লেন তিন শ্রমিক। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পথেই মৃত্যু হয় একজনের। হাসপাতালে ভরতি করার কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যান আরেক শ্রমিক। অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার সন্ধ্যায় মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গানগরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলে এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই শ্রমিকের নাম মিন্টু মণ্ডল এবং মলয়চন্দ্র হাওলাদার। জখম শ্রমিকের নাম বাপ্পা পাত্র, তাঁর কোমরে গুরুতর চোট লেগেছে। তিনজনেরই বাড়ি অশোকনগরে।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার একেবারে শেষ প্রান্ত গঙ্গানগরে তৈরি হচ্ছে একের পর এক বহুতল। ওই এলাকায় এক নির্মাণকারী সংস্থা একটি সাততলা বাড়ি তৈরি করছিল। নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন বহুতলের বাইরের অংশে রংয়ের কাজ চলছিল। ওইদিন সন্ধ্যায় তিন শ্রমিক ক্যাটেলে উঠেছিলেন রং করার জন্য। ক্যাটেল হল সেই বস্তু, যেখানে কাঠের পাটাতনের উপর দাঁড়িয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় কাজ করেন শ্রমিকরা। আর সেই পাটাতন তার বা মোটা দড়ির সাহায্যে বাঁধা থাকে ছাদে থাকা কপিকলের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, তিন শ্রমিককে ক্যাটেলে করে সাততলায় তোলা হচ্ছিল, সেই সময় তার ছিঁড়ে গেলে এই বিপত্তি হয়। তাঁরা নীচে পড়ে গেলে বিকট শব্দ হয়। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন অন্যান্য শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় মিন্টু মণ্ডলের। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ বাদে মারা যান মলয়চন্দ্র হাওলাদার। দুর্ঘটনার পর নির্মাণস্থলে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠেছে। ওই ক্যাটেলে শ্রমিকদের তোলার আগে সেটি ঠিকমতো পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করেই ওই তিনজনকে ক্যাটেলে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এই বহুতলে এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এক বছর আগে কাজ করতে গিয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির মধ্যমগ্রাম ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ ঘোষের দাবি, ২০২৫ সালে এখানে এক দুর্ঘটনায় ২২ বছরের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তারপরেও শ্রমিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ব্যবস্থা নেয়নি ডেভেলপার সংস্থা। নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। দু’জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। একজন চিকিৎসাধীন। এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।