সংবাদদাতা, কান্দি: মৃত্যুর পর স্বামীর দেহ নিয়ে দুই স্ত্রীর টানাহ্যাঁচড়া দেখে স্তম্ভিত ভরতপুর থানার ভালুইপাড়া গ্রাম। মৃতের নাম বকুল শেখ ওরফে মনির শেখ (৪৫)। তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে ভালুইপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। শনিবার রাতে দুই স্ত্রীর টানাহ্যাঁচড়ার মধ্যে পুলিশ মনিরের দেহ তুলে দেয় তাঁর মায়ের হাতে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বুকে ব্যথা নিয়ে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মনির। তিনি ফেরিওয়ালা ছিলেন। শনিবার সকালে তিনি হাসপাতালেই মারা যান। বিকেলের দিকে তাঁর মৃতদেহ ভালুইপাড়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। দেহ গ্রামে এলে কবরস্থানে মাটিও কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন ভালুইপাড়া গ্রামে বীরভূমের কোর্ট গ্রামের মৃতের প্রথম স্ত্রীর পরিবার এসে দেহ নিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গণ্ডগোল চলে। পরে সন্ধের দিকে খবর পেয়ে ভরতপুর থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর পুলিশ মৃতের স্ত্রীদের কাছে নথি দেখতে চাইলে অবাক করার মতো কাণ্ড ঘটে। ওই থানার এক অফিসারের কথায়, মৃত ব্যক্তির নামে দু’টি আধারকার্ড ও দু’টি এপিক কার্ড রয়েছে। দু’টিই আসল। আবার দু’টি ক্ষেত্রেই উনি ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। বীরভূমের কোর্টগ্রামের নথিতে মৃতের নাম বকুল শেখ। আর ভালুইপাড়ার নথিতে নাম মনির শেখ। তবে ভালুইপাড়া গ্রামের নথিতে অন্য একজনকে বাবা দেখানো হয়েছে। অবাক হওয়ার এখানেই শেষ নয়। মৃত ব্যক্তির প্রায় পাঁচটি বিয়ে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। বীরভূমের কোর্ট গ্রামে প্রথম বিয়ের পর বর্ধমান ও মেদিনীপুরে দু’টি বিয়ে করেন। এর প্রায় ১৪ বছর আগে ভালুইপাড়া গ্রামে বিয়ে করেন। সম্প্রতি স্থানীয় জোরগাছি গ্রামে ফের একটি বিয়ে করেন বলেও জানা গিয়েছে। এদিকে মৃতদেহ থানায় নিয়ে আসার পর পুলিশ মৃতের মা তহেজুনা বিবিকে থানায় আসতে অনুরোধ করে। শনিবার গভীর রাতে তিনি থানায় এলে পুলিশ তাঁর হাতে দেহ তুলে দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃতের মা বলেন, ছেলে অনেক ক’টি বিয়ে করেছে জানি। কিন্তু ওকে শাসন করার ক্ষমতা আমার ছিল না। তবে শেষে এমন পরিণতি হবে ভাবতেও পারছি না।
এবিষয়ে ভালুইপাড়া গ্রামের মৃতের স্ত্রী আজমিরা বিবি বলেন, স্বামী আমার কাছে প্রায় ১৪ বছর ধরে রয়েছেন। সুখে দুঃখে আমিই একমাত্র তাঁকে সঙ্গ দিয়েছি। আমাদের দু’টি সন্তানও রয়েছে। অপরদিকে মৃতের প্রথম স্ত্রী সনজিদা বিবি জানান, প্রথম স্ত্রী হিসেবে সবার আগে আমি স্বামীর দেহ পাওয়ার দাবি জানিয়েছি। এতে অন্যায় কিছু নেই।