ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: এবার মাল পুরসভায় পিএফে ব্যাপক গরমিল সামনে এল। কর্মীদের বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হলেও তার বেশিরভাগটাই জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। স্বপন সাহা চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০২০ সাল থেকে পিএফ বিতর্কের শুরু। যা ধামাচাপা দিতে অনেক কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, গত ছ’বছর ধরে ঠিকমতো জমা না পড়ায় পুরসভার বকেয়া পিএফের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। এনিয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডের জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক কমিশনারের অফিসের তরফে পুরসভাকে বেশ কয়েকবার নোটিস ধরানো হয়েছে। পিএফ অফিসের ইনসপেক্টররা সশরীরে পুরসভায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তলব করেছেন। কিন্তু পুর কর্তৃপক্ষ পিএফের সমস্ত নথিপত্র জমা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ।
জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক পিএফ কমিশনার পবনকুমার বনসাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাল পুরসভা ঠিকমতো পিএফের টাকা জমা করছে না। এনিয়ে তাদের একাধিকবার নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। পিএফ সংক্রান্ত কাগজপত্র তাদের জমা দিতে বলা হলেও সবটা এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আইন মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পিএফ অফিস সূত্রে খবর, ২০১৭ সালের মে মাসে মাল পুরসভা ১১৮ জন কর্মীর পিএফের টাকা জমা করে। ২০২০ সালের মার্চে জমা পড়েছে ১১০ জন কর্মীর পিএফ। ওই বছরের এপ্রিলে ৯৪ জন কর্মীর পিএফ জমা দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। ৯৫ জন কর্মীর পিএফ জমা পড়ে ২০২০ সালের অক্টোবরে। ওই বছরের ডিসেম্বরে কোনো কর্মীর পিএফ জমা পড়েনি। তখন থেকেই শুরু হয় গোলমাল। দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ৮২ জন কর্মীর পিএফ জমা পড়েছে। আর ২০২২ সালের নভেম্বরে পিএফ জমা হয়েছে মাত্র ১৮ জনের। পরবর্তী সময়ে কোনো মাসে দশজন, কোনো মাসে ১৫ জন কর্মীর পিএফ জমা পড়েছে। কোনো মাসে আবার একজনেরও পিএফের টাকা জমা পড়েনি। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পিএফ খাতে কর্মীদের অংশের টাকা জমা পড়লেও মাল পুরসভার তরফে যে অর্থ দেওয়ার কথা, তা বকেয়া থেকে গিয়েছে।
প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিসের এক আধিকারিক বলেন, মাল পুরসভায় পিএফ নিয়ে প্রচুর গরমিল রয়েছে। আমরা বারবার চেয়েও কাগজপত্র পাচ্ছি না। বলা হচ্ছে, অডিট হয়নি। তৈরি হয়নি ব্যালান্স শিট। অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ওই পুরসভায় যত সংখ্যক কর্মী রয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগের পিএফ বছরের বছর ধরে জমা দেওয়া হয়নি।
এনিয়ে মাল পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহার বক্তব্য, পুরসভার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না, সেকারণে পিএফের টাকা হয়ত জমা পড়েনি। তার মানে এই নয় যে, সেই টাকা অন্য কোনো কিছুতে খরচ করা হয়েছে।
পিএফের যে মোটা অংকের টাকা বকেয়া তা স্বীকার করে নিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি। তাঁর সাফাই, পুরসভার যা অবস্থা, তাতে বকেয়া পিএফ মেটানো এখন সম্ভব নয়।