নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টার আগাম কন্ট্রোল রুম চালু করল সেচদপ্তর। জলপাইগুড়ির ওই কন্ট্রোল রুম থেকে শিলিগুড়ি মহকুমার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। পাশাপাশি ভুটান ও সিকিম পাহাড়ে কতটা পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তিন ঘণ্টা অন্তর তার রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সেচদপ্তরের কর্তারা। কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বয় বৈঠক হবে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে।
সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে ভুটান পাহাড়ে। সিকিমেও বৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সেচদপ্তরের রেকর্ড বলছে, গত কয়েক বছরের নিরিখে এবার এপ্রিলে উত্তরবঙ্গে ৫০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্টে বৃষ্টির পরিমাণ কী দাঁড়ায়, তার উপরেই সামগ্রিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে।
সেচদপ্তরের উত্তরপূর্বের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পয়লা জুন থেকে কন্ট্রোল রুম চালু হল। ওই কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। সংগ্রহ করা হবে ১৭৩টি রেইন গেজের রিপোর্ট। এর মধ্যে ৩৩টি রেইন গেজ সিকিমে এবং ৪টি ভুটান পাহাড়ে বসানো। বাকিগুলি ডুয়ার্সে।
এদিকে, জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের বক্তব্য, এমনিতেই পলি-বালি জমে তিস্তার তলদেশ অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছে। ড্রেজিং হবে বলে শুনেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। ফলে এবার ভারী বর্ষায় কী হবে, তা ভেবে রাতের ঘুম উড়ে যাচ্ছে।
জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দপল্লি, সারদাপল্লির বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত অক্টোবরে বন্যার সময় তাঁদের এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। মেরামতির কিছু কাজ হলেও বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও শক্তপোক্তভাবে নতুন করে বাঁধ তৈরির কাজ হয়নি।
সেচদপ্তর সূত্রে খবর, বাঁধ মেরামতির কাজের জন্য আগের সরকারের আমলে প্রায় ৮০ কোটি টাকার এস্টিমেট পাঠানো হলেও এখনও তার অনুমোদন মেলেনি। ফলে ফি বছর বর্ষার আগে যেভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ মেরামতির কাজ করা হয়, এবার তা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এটা তো ঠিক যে, এবারের বর্ষায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমরা প্রতিবার বাঁধ মেরামতির যে কাজ করে থাকি, এবছর তার অনেকটাই হয়নি। তবে খবর পেয়েছি, যে ৮০ কোটির কাজের এস্টিমেট পাঠানো হয়েছিল, তার ফাইল অর্থদপ্তরে গিয়েছে। অনুমোদন মিললেই আমরা কাজ শুরু করব।