Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছিনতাইয়ের ভয় দেখিয়ে সোনার গয়না কেপমারি, শহরের দুই ‘ওয়ান্টেড’ ধৃত

শুনশান রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন একাকী মহিলা কিংবা বৃদ্ধা। তাঁর গলা, কান কিংবা হাতে সোনার অলংকার থাকলে আর রক্ষা নেই! তাতে নজর পড়ত দুই দুষ্কৃতীর।

ছিনতাইয়ের ভয় দেখিয়ে সোনার গয়না  কেপমারি, শহরের দুই ‘ওয়ান্টেড’ ধৃত
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শুনশান রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন একাকী মহিলা কিংবা বৃদ্ধা। তাঁর গলা, কান কিংবা হাতে সোনার অলংকার থাকলে আর রক্ষা নেই! তাতে নজর পড়ত দুই দুষ্কৃতীর। নিপাট ভদ্রবেশী দুই যুবক ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইবাজের ভয় দেখাত সেই মহিলাকে। সেগুলি খুলে ব্যাগে ঢুকিয়ে নিতে বলত। কখনও কখনও নিজেরাই গয়না খুলতে সাহায্য করত। সেই সময় হাতের কারসাজিতেই গায়েব হয়ে যেত সোনার অলংকার। 

Advertisement

কয়েক মাস ধরে খাস কলকাতায় এমনই একাকী মহিলা পথচারীরা কেপমারির শিকার হয়েছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরপর কেপমারির অভিযোগ আসছিল পুলিশর কাছে। গড়িয়া ঘেঁষা এলাকাগুলিতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। সব ক্ষেত্রেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। কিন্তু, কিছুতেই দুষ্কৃতীদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। সবকটি কেসের তদন্তের ভার যায় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে। শনিবার স্থানীয় একটি কেসের তদন্ত করতে গিয়ে তমলুক থানার পুলিশ সোনার গয়না কেপমারির দুই ওয়ান্টেডকে গ্রেফতার করেছে। মূল চক্রীর নাম রঙ্গলাল শেখ ওরফে রাজ। বারুইপুরের সুভাষগ্রামের বাসিন্দা সে। রাজের সঙ্গী সাদ্দামকেও পাকড়াও করেছে তমলুক থানার পুলিশ। কলকাতার কেপমারিতে ‘ওয়ান্টেড’ দুই দুষ্কৃতীকে এবার নিজেদের হেপাজতে নিতে চাইছে লালবাজার। আজ, সোমবার তমলুক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এই মর্মে আইনি প্রক্রিয়া সারতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে লালবাজার। 
তমলুক পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত রঙ্গলাল তমলুক থানায় চারটি, কাঁথি, এগরা, কোলাঘাট সহ পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ১২ জন মহিলার কাছ থেকে কৌশলে সোনার গয়না হাতিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। একসময় বারুইপুর জেলে ছিল রঙ্গলাল। সেখানে পকসো মামলায় জেলবন্দি ছিল সাদ্দাম আলি মণ্ডল। সংশোধনাগারেই রঙ্গলালের সঙ্গে সাদ্দামের পরিচয়। তারপরই সাদ্দামকে নিজের টিমে আনার চেষ্টা করে রঙ্গলাল। এই কারবারে প্রচুর টাকা রোজগারের টোপ দিয়েছিল সে। পুলিশ জেনেছে, মোট ছ’জনের একটি টিম পূর্ব মেদিনীপুরের নানাপ্রান্তে রাস্তা-ঘাটে মহিলাদের টার্গেট করত। প্রথমে শুভাকাঙ্ক্ষী সাজার অভিনয়। তারপর চোর, ছিনতাইবাজদের ভয় দেখিয়ে সোনার গয়না খুলে ব্যাগে রাখতে পরামর্শ দিত। নিমেষে সেই ব্যাগ গায়েব করত ওই টিম।
তমলুক থানার পুলিশের হাতে রঙ্গলাল ধরা পড়েছে, এই খবর পাওয়ার পর খোদ লালবাজার তাকে হেপাজতে নিতে চাইছে। লালবাজার সূত্রে খবর, শহরে চারটি কেস রয়েছে রঙ্গলাল ও তার শাগরেদদের নামে। কিন্তু, কলকাতা পুলিশের দুঁদে গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে প্রায় বছর দেড়েক ধরে পালিয়ে ছিল এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা। তমলুক থানার পুলিশ জানিয়েছে, মোট ছ’জনের গ্যাং ওই অপারেশন চালাত। তাদের মধ্যে গ্রুপ লিডার রঙ্গলাল ও তার সহযোগী সাদ্দাম ধরা পড়েছে। পুলিশ অফিসার মুক্তার আলি খান ও গৌতম নন্দীর নেতৃত্বে একটি টিম জয়নগরে হানা দিয়ে রঙ্গলালকে পাকড়াও করেছেন। তবে একজন রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে। বাকি তিনজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ