নিরাকার উপাসকদের পক্ষে ভ্রূ-মধ্যে ধ্যান প্রশস্ত বলা হয়। কিন্তু এখানে ঠাকুর নিরাকার ধ্যানেরও স্থান নির্দেশ করেছেন হৃদয়। মণিলাল নিরাকারবাদী, ঠাকুর তাঁকে বলছেন হৃদয়ে ধ্যান করবে। সাকার ধ্যান বলতে আমরা সাধারণভাবে বুঝি মূর্তির ধ্যান বা সেই মূর্তির সঙ্গে যে সব গুণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেইসব গুণের ধ্যান। ধ্যান মানে চিন্তা। সে চিন্তা রূপেরও চিন্তা হতে পারে, গুণেরও। যেমন ভগবানের কোন রূপের চিন্তা যখন করি তখনও তিনি পবিত্র, করুণাময়, সর্বশক্তিমান, সবেশ্বর এগুলি সব সঙ্গে সঙ্গেই আসে। সুতরাং এই গুণগুলিও চিন্তার বিষয়ীভূত হল। কাজেই আমরা বুঝতে পারি মূর্তির চিন্তা হৃদয়ে করব। নিরাকারের চিন্তা কি করে করব? এ সম্বন্ধে শাস্ত্র বলেছেন, হৃদয়ের মধ্যে যে আকাশ রয়েছে সেই অন্তরাকাশের চিন্তা করতে হবে। তবে কেবল নিরাকার বস্তুর চিন্তা করা কঠিন বলে বলছেন, তার সঙ্গে আর একটু যোগ কর। কখনও জ্যোতি, কখনও নীহারিকা, কখনও নক্ষত্র পুঞ্জ, কখনও উজ্জ্বল ব্রহ্মজ্যোতি বা ব্রহ্মসত্ত্বা পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে এইরকম চিন্তা করবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এই নিরাকার স্বরূপগুলি একেবারে নিরাকার নয়। কারণ বিশিষ্ট একটা আকৃতি না থাকলেও জ্যোতিও একটা আকার, ধোঁয়া বা কুয়াশাও একটা আকার। আকার মানেই যে, হাত পা প্রভৃতি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকতেই হবে তা নয়, আকার মানে যার দ্বারা এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুকে পৃথক করা যায়। একেবারে নিরাকার চিন্তা করা অর্থাৎ গুণশূন্য, বৈশিষ্ট্যশৃন্য চিন্তা সাধারণ সাধকের পক্ষে অসম্ভব। তাই তাদেরও কোন প্রতীক অবলম্বন করে চিন্তা করতে হয়। ঐ ধোঁয়া, নীহারিকা, কুয়াশা বা জ্যোতিঃপুঞ্জ—এইগুলি সব প্রতীক। এই প্রতীকের সাহায্যে সেই নিরাকার ব্রহ্মতত্ত্বকে চিন্তা করা যায়।


