সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বুধবার ছিল বামপন্থী ও কংগ্রেসের শ্রমিক, কর্মচারী ও কৃষক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘট। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের তপসিখাতা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাটকাপাড়া চা বাগানে বামেদের ধর্মঘট বানচাল করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে পড়ে। বামেদের বন্ধ ব্যর্থ করার সময় তৃণমূলের তপসিখাতা পঞ্চায়েতের দলীয় প্রধান শেফালি বর্মন রায়ের স্বামী রতন রায়ের অনুগামীদের সঙ্গে দলের অঞ্চল চেয়ারম্যান লক্ষ্মীকান্ত রাভার অনুগামীদের বচসা হয়। তারপর দুই গোষ্ঠীর লোকজন মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের পাঁচজন অল্পবিস্তর জখম হন। ঘটনার সময় পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও পুলিস গুলি ছোড়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের তপসিখাতা অঞ্চলের প্রধানের সঙ্গে অঞ্চল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব অনেকদিন ধরেই চলছে। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ পাটকাপাড়া চা বাগানে বামেদের বন্ধ ব্যর্থ করতে দুই গোষ্ঠীর লোকজনই যায়। সেখানেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিট শুরু হয়ে যায়। লাঠির আঘাতে কপাল ফেটে যায় প্রধানের স্বামীর রতনের। মার খান দলের অঞ্চল চেয়ারম্যান লক্ষ্মীকান্তর এক আত্মীয় সহ তাঁর অনুগামীরা।
যদিও প্রধানের স্বামী রতনবাবু বলেন, আমরা বামেদের বন্ধ ব্যর্থ করার জন্য বাগানের গেট খুলে দিচ্ছিলাম। তখনই বিনা প্ররোচনায় লক্ষ্মীকান্ত রাভার লোকজন আমাদের মারধর করে। লাঠির আঘাতে আমার কপাল ফেটে যায়। ঘটনার সময় গুলি ছোড়ার শব্দ পাইনি। পুরো বিষয়টি দলকে জানিয়েছি। প্রধান শেফালি বর্মন রায় বলেন, লক্ষ্মীকান্তর গা থেকে এখনও লাল রং যায়নি। তিনি আরএসপি থেকে আমাদের দলে এসে গোষ্ঠীবাজি করছেন।
পাল্টা অভিযোগ করে লক্ষ্মীকান্ত বলেন, এসব মিথ্যা কথা। ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। আমি বা আমার লোকজন কাউকে কোনওদিন মারধর করেননি। প্রধানের স্বামীর লোকজনই এদিন আমার লোকজন ও নাতিকে মারধর করেছে। আমাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি ছোড়া হয়েছিল। ঘটনার কথা দলকে জানিয়েছি।
তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি তুষারকান্তি রায় বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয় নেই। সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে দুই পক্ষের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ওই ঘটনায় গুলি চলেছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।