Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইসলামপুরের গ্রামাঞ্চলে প্ল্যান ছাড়াই দু-তিনতলা বাড়ি, ৬৪ জনকে নোটিস

ইসলামপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিনা প্ল্যানে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল বাড়ি। ফলে বিল্ডিং প্ল্যান থেকে পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলে যে পরিমাণ অর্থ ঢোকার কথা, তা হচ্ছে না।

ইসলামপুরের গ্রামাঞ্চলে প্ল্যান ছাড়াই  দু-তিনতলা বাড়ি, ৬৪ জনকে নোটিস
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিনা প্ল্যানে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল বাড়ি। ফলে বিল্ডিং প্ল্যান থেকে পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলে যে পরিমাণ অর্থ ঢোকার কথা, তা হচ্ছে না। প্ল্যান পাশ ছাড়াই বহুতল নির্মাণ করায়  পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ  গত কয়েক মাসে ৬৪ জনকে নোটিস পাঠিয়েছে। 

Advertisement

পঞ্চায়েত প্রধান অসীমা পাল বলেন, বাসিন্দাদের একাংশ প্ল্যান পাশ না করেই বহুতল তৈরি করছেন। আমরা চাইছি, সবাই নিয়ম মেনে প্ল্যান পাশ করিয়ে বহুতল নির্মাণ করুন। নিয়ম না মানায় প্রায় ৬৪ জনকে নোটিস পাঠিয়েছি। 
ইসলামপুর শহরঘেঁষা পঞ্চায়েত এলাকা। দিন দিন শহরের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু মানুষ পঞ্চায়েত এলাকায় দু-তিনতলা বাড়ি তৈরি করছেন। প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো বহুতল গড়ে উঠছে। অনুমতি না নিয়েই সেই নির্মাণ হচ্ছে। অভিযোগ, প্ল্যান পাশ না করিয়েই বহুতল বানিয়ে দোকান ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ ট্রেড লাইসেন্সও নিচ্ছেন না। 
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহুতল নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা জরুরি। বাস্তুকাররা বলছেন, প্ল্যান ছাড়া বহুতল তৈরি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কংক্রিটের নির্মাণ করলে নিয়ম অনুসারে পঞ্চায়েত থেকে প্ল্যান পাশ করাতে হয়। এজন্য পঞ্চায়েত সামান্য কর আদায় করে। সেই অর্থ পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলে জমা হয়। দ্বিতল পর্যন্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্ল্যান পাশ হয় পঞ্চায়েত থেকে। তিন-চারতলা নির্মাণের জন্য জেলা থেকে প্ল্যান পাশ করাতে হয়। যাঁরা নিয়ম মানেননি, পঞ্চায়েত নোটিস ধরানোয় চিন্তায় তাঁরা। গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন পাড়ার বাসিন্দা শ্যামাপ্রসাদ সিংহ নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এখনও কিছু নির্মাণকাজ চলছে। গত ২৫ আগস্ট পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ নোটিস দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্ল্যান পাশ না করানোয় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে পঞ্চায়েত প্রধান জানিয়েছেন। 
শ্যামাপ্রসাদের কথায়, আমার দোতলা বাড়ি। কিন্তু চারতলা হচ্ছে বলে নোটিস দিয়েছে পঞ্চায়েতে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বিডিওকে জানিয়েছি। বিডিও বলেন, আমাদের ইঞ্জিনিয়ার গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার পর অবশ্য কিছু মানুষের টনক নড়েছে।  কেউ কেউ বাড়ি নির্মাণের আগে প্ল্যান পাশ করাচ্ছেন। ট্রেড লাইসেন্সের জন্যও অনেকে আবেদন করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, যাঁরা বিনা প্ল্যানে বহুতল নির্মাণ করেছেন, তাঁদের এখন কী করণীয়? ইসলামপুরের বিডিও দীপান্বিতা বর্মন বলেন, বহুতল নির্মাণে প্ল্যান পাশ আবশ্যক। সেজন্য পঞ্চায়েতকে মাইকিং করতে বলা হয়েছিল। বিনা প্ল্যানে যাঁরা নির্মাণ করেছেন, তাঁদের কী করণীয়, সেবিষয়ে জেলা থেকে গাইডলাইন চাওয়া হয়েছে।  প্রধান বলছেন, ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে অনেকে দোকান, শোরুম খুলে ব্যবসা করছেন। বিল্ডিং প্ল্যান ও ট্রেড লাইসেন্স তৈরির জন্য বাসিন্দাদের সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। ব্লক প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ