Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীর জলে চোলাই লুকিয়ে ব্যবসা, সাঁতার-অভিযানে উদ্ধার দু’হাজার লিটার

আউশগ্রাম ও ভাতারের মাঝে বয়ে গিয়েছে কুনুর নদী। সেই নদীর জলে নীচে বিস্তার হয়েছে চোলাইয়ের সাম্রাজ্য।

নদীর জলে চোলাই লুকিয়ে ব্যবসা, সাঁতার-অভিযানে উদ্ধার দু’হাজার লিটার
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রাম ও ভাতারের মাঝে বয়ে গিয়েছে কুনুর নদী। সেই নদীর জলে নীচে বিস্তার হয়েছে চোলাইয়ের সাম্রাজ্য। সাধারণত চোলাই যেখানে তৈরি হয়, তার আশপাশে মজুত করেই বিক্রি করে কারবারিরা। কেউ বাড়িতে লুকিয়ে রাখে, কেউ মাটি খুঁড়ে চোলাইয়ের টিনগুলি পুঁতে রাখে। কিন্তু বহতা নদীর নীচে চোলাই মজুত করতে কষ্মিনকালেও দেখেননি আবগারি কর্তরা। কর্মজীবন প্রায় শেষ করে আনা এক কর্তার সরস মন্তব্য, চোলাই যে কবে ঝামা পাথর হয়ে গেল, তা বুঝতেই পারলাম না! আমার নেতৃত্বে বহু অভিযান হয়েছে। কিন্তু কোথাও সাঁতার কেটে চোলাই উদ্ধার করতে হয়নি। 

Advertisement

ভাতারের বসতপুর গ্রাম চোলাইয়ের খাসতালুক হিসেবে কুখ্যাত। ওই গ্রামের শেষ প্রান্তে বইছে কুনুর নদী। নদীর ওপারে গুসকরা শহর। আউশগ্রামের চোলাই কারবারিরা কুনুর নদীর জলের নীচে ভাতারের বসতপুর থেকে আড়াআড়ি গুসকরা শহর পর্যন্ত নদীর নীচে ভাসিয়ে রাখছে চোলাই ভর্তি টিন। নদীর নীচ থেকে এক একটা টিন তুলে এনে সাপ্লাই দেওয়া হয়। বাইরে থেকে সাদা চোখে এসব কারসাজি বোঝার বিন্দমাত্র উপায় নেই। আবগারি অফিসারদের সাঁতার কেটে খুঁজে উদ্ধার করতে হচ্ছে বেআইনি চোলাই। 
ভাতারের বসতপুরে তৈরি হচ্ছে চোলাই। লিটার লিটার চোলাই টিনে ভর্তি করে সিল করা হচ্ছে। সিল করা টিনগুলির তলায় বাঁশের ছিল দিয়ে বাঁধা হচ্ছে। তারপর প্লাস্টিক ত্রিপলে টিনগুলিকে একসঙ্গে মুড়ে সিল করে দেওয়া হচ্ছে। তারপর তা কুনুর নদীর জলের নীচে ‘সেতু’-র মতো ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। 
আউশগ্রামের আবগারি ওসি উত্তম মাহাত বলেন, আমি দীর্ঘ চাকরি জীবনে চোলাই লোকানোর এমন অভিনব কায়দা দেখিনি। দেখলে মনে হবে নদীর তলায় আস্ত একটি সেতু। 
আবগারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিনমাসে আউশগ্রামজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার লিটার চোলাই উদ্ধার করা হয়েছে৷ একশোর উপর মামলা রুজু করা হয়েছে। ৯ জন কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দু’ হাজার লিটার চোলাই উদ্ধার করা হয়েছে। আউশগ্রামের বাহাদুরপুর, প্রেমগঞ্জ, ভাল্কি, সামন্তপাড়া, আদুরিয়া, যাদবগঞ্জ এসব এলাকায় চোলাইয়ের সাম্রাজ্য। এবার কি তা হলে আবগারি অফিসারদের সাঁতার প্রশিক্ষণ জরুরি হয়ে পড়ল! এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দপ্তরে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ