নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মোবাইল ফোন কিনতে যাওয়ার সময় ট্রাকের চাকায় পিষে মৃত্যু হল দুই কিশোরের। জখম আরও এক কিশোর। বুধবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সাঁকরাইলের কদমতলা এলাকার আন্দুল রোডে। মৃতদের নাম রাজ লস্কর (১৭) ও ইরফান মোল্লা (১৭)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিল্টু মোল্লা নামে আরও এক কিশোর। তিনজনেরই বাড়ি সাঁকরাইলের মানিকপুর গোড়াবাঁধ এলাকায়। লরি সহ চালককে গ্রেপ্তার করেছে সাঁকরাইল থানার পুলিস। দুর্ঘটনার পর আন্দুল রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, খবর পেলেও ঘটনাস্থলে এসে দেহ তুলতে অনেক দেরি করেছে পুলিস।
বুধবার রাতের ওই দুর্ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে কদমতলা মোড়ের একটি দোকানের সিসি ক্যামেরায়। তাতে দেখা গিয়েছে, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আলমপুর থেকে আন্দুলের দিকে আসার সময় ওই তিন কিশোর একটি বাইকে চেপে পণ্যবোঝাই ১৪ চাকার একটি লরিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছিল। বাঁদিকে পাশ কাটাতে গিয়ে আচমকাই লরির সামনের চাকার সঙ্গে ধাক্কা লাগে বাইকের। মুহূর্তেই লরির চাকার সামনে পড়ে পিষ্ট হয় ইরফান ও রাজ। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে যায় শিল্টু। পুলিস জানিয়েছে, এদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে লরিটিকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় সাঁকরাইল থানায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় খবর দেওয়ার দীর্ঘক্ষণ পর পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ততক্ষণ দুই কিশোরের দেহ রাস্তাতেই পড়েছিল। তিনজনকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ইরফান ও রাজকে মৃত বলে জানিয়ে দেন। শিল্টুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। তার চোট গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর আন্দুল রোড অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো বাসিন্দা। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত আন্দুল রোডে তীব্র যানজট দেখা যায়। পুলিস বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরই লরি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাইকে সওয়ার তিন কিশোরের মাথায় হেলমেট ছিল না। তার উপর বেপরোয়া গতিতে ট্রাকটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল তারা।’ তার জেরেই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমেছে মানিকপুর এলাকায়। তিন কিশোর একে অপরের খুড়তুতো ভাই। তাদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজনই দর্জির কাজ করত। বুধবার রাতে ইরফানের মোবাইল ফোন কেনার কথা ছিল। সেজন্য তিনজন একসঙ্গে বাইক নিয়ে বের হয়। আলমপুরে গিয়ে বিরিয়ানি খায় প্রত্যেকে। এরপর মোবাইল ফোন কিনতে যাওয়ার পথেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।