সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট আইটিআই কজেলের মুকুটে একাধিক নতুন পালক জুড়তে চলেছে। পড়ুয়াদের গুরুত্ব সহকারে পড়ানোর জন্য ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৫’ পেতে চলেছেন ওই কলেজের দু’জন শিক্ষক সুকান্ত কোনার ও ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়। ভারত সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয় থেকে ওই দু’জন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। ওই দু’জন ব্যতিক্রমী শিক্ষাবিদকে সম্মানিত করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁদের হাতে ৫ সেপ্টেম্বর তথা শিক্ষক দিবসের দিন পুরস্কার তুলে দেবেন। নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ওই কলেজের আরও পাঁচজন শিক্ষক পেতে চলেছেন রাজ্য সরকারের উৎকর্ষ বাংলার পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দপ্তরের তরফ থেকে ‘শ্রেষ্ঠত্ব সন্মান’। ওই পাঁচজন শিক্ষক হলেন, জন অ্যান্থনি কুপার, তিনি ফিটার। রমেশ রক্ষিত, তিনি ইলেক্ট্রিশিয়ান ইন্সট্রাক্টর। অসীমকুমার মুখোপাধ্যায়, তিনি যন্ত্রবিদ। ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়, তিনি ডিজেল মেকানিক ও অংশুমান সাহা, তিনি রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং বিভাগের ইন্সট্রাক্টর ওই কলেজে।
আইটিআই কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও ২০২৩ সালে ওই কলেজের শিক্ষক রমেশবাবু রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন। করোনাকালে লকডাউন পরিস্থিতিতে ছাত্ররা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তারজন্য অনলাইনে আইটিআই ছাত্রদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন। আইটিআই ছাত্রদের জন্য ইউটিউবের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেন। এতে প্রচুর পড়ুয়া উপকৃত হয়েছিলেন। সেই কারণে জাতীয় শিক্ষক হিসেবে রমেশবাবুকে গণ্য করা হয়েছিল। ভারত সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছরে ভারতবর্ষে মোট ৪৫জন শিক্ষককে জাতীয় শিক্ষক সম্মানে সন্মানিত করা হবে। তার মধ্যে দু’জন শিক্ষক দুর্গাপুর আইটিআই-এর। স্বাভাবিকভাবেই কলেজ তথা দুর্গাপুরের গর্ব তাঁরা।
ইন্দ্রনীলবাবু বলেন, আমরা কজেলের পড়ুয়াদের শিক্ষা প্রদান করতে সর্বক্ষণ তৎপর থাকি। আমরা দু’জন যেমন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার পেতে চলেছি। পাশাপাশি আমি রাজ্য সরকারের উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পে এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস লাভ করতে চলেছি। এছাড়াও আমাদের আরও চারজন শিক্ষক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস পেতে চলেছেন। আমাদের উপ-অধিকর্তার সহযোগিতায় আমরা এই সন্মানে সন্মানিত হতে চলেছি। কলেজের উপ-অধিকর্তা অরিন্দম আচার্য বলেন, আমাদের দু’জন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষকের সম্মান পাচ্ছেন। পাশাপাশি চারজন শিক্ষক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস পাচ্ছেন। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলার গর্ব। আমাদের কলেজ স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত।