সংবাদদাতা, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি: টয়ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর জখম দুই ছাত্রী। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে কার্শিয়াং বাজারে। ২০২২ সালের মার্চ মাসের পর থেকে এই ধরনের ঘটনা পঞ্চমবার ঘটল। জখম দুজনের নাম যথাক্রমে প্রতীক্ষা রাই(১৯) এবং রোশনি রাই। তারা মকাইবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দা।
ট্রেনের ধাক্কায় প্রতীক্ষা সামান্য জখম হয়। তবে রোশনি ইঞ্জিনের কোনায় আটকে যায়। ওই অবস্থায় তাঁকে কিছুটা হিঁচড়ে নিয়ে যায় টয়ট্রেন। এরপর কার্শিয়াং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়।
এদিন দুপুর ১২টা ৪০নাগাদ দার্জিলিং থেকে এনজেপি যাচ্ছিল টয়ট্রেনটি। কানে হেডফোন আর হাতে মোবাইল নিয়ে গান শুনতে শুনতে রেললাইন পারাপারের মাশুল দিতে হল এই দু’জনকে। কানে হেডফোন থাকায় তরুণীরা টয়ট্রেনের শব্দ শুনতে পায়নি। ফলে ট্রেন তাদের সামনে চলে এলেও তারা নিরাপদ জায়গায় সরার চেষ্টা করেননি। টয়ট্রেনটি তাঁদের ধাক্কা মারে।
তারপর কিছুটা দূর টয়ট্রেন তাদের মধ্যে একজনকে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রেন থামিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে কার্শিয়াং হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখান থেকে তরুণীকে চিকিৎসকরা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, এদিন দুই তরুণী হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। সেজন্য ট্রয় ট্রেন আসার শব্দ তিনি টের পায়নি। ট্রেনটি এসে তাদের ধাক্কা মারে এবং ইঞ্জিনের কোনায় আটকে পড়ে। ওই অবস্থায় কিছুটা দূর তাকে হিঁচড়ে নিয়ে যায় টয় ট্রেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসা চলছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএইচআর ডিরেক্টর বলেন, এই ঘটনা থেকে সকলেরই সচেতন হওয়া দরকার, যে রাস্তায় চলাচলের সময় হেডফোন লাগিয়ে কেউ যাতে মোবাইল ব্যবহার না করেন। এতে কী ধরনের ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে সেটাই এ দিনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
ট্রেনটি দার্জিলিং থেকে এনজেপি আসছিল। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ট্রেনটি এনজেপির উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে ভারতজুড়ে ৩১জন সংসদ সদস্যের একটি গবেষণা সফরের জন্য ডিএইচআর পরিদর্শনের কথা রয়েছে।