রাজা ভট্টাচার্য: খুব কাছেই কোথাও একসঙ্গে অনেকগুলো শেয়াল ডেকে উঠতেই চমকে উঠলেন রামমোহন। কলকাতার এই শেষ প্রান্তে, মানিকতলায় অবস্থিত তাঁর বাড়িটির আশপাশে শেয়ালের ডাক শোনা যাওয়া এমন কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়। আসলে তাঁর নিবিড় মনঃসংযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এই শব্দে।
এই মুহূর্তে রামমোহনের কপালে ফুটে উঠেছে অসন্তোষের রেখা। কাল সকালেই বিহারীলাল চৌবের বাড়িতে এক অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ তর্কের আসর বসবে। ইদানীং ব্রাহ্মধর্ম নিয়ে আলোচনা ও তর্কাতর্কি চরমে পৌঁছেছে। রাধাকান্ত একেবারে কোমর বেঁধে লেগে পড়েছেন রামমোহনের বিরুদ্ধে। তিনি বঙ্গদেশের কায়স্থ সমাজের প্রধান, শোভাবাজারের রাজবাড়িতেই জাতকাছারি বসে। সুতরাং তাঁর লোকবলের অভাব নেই, আর অর্থবলের তো কথাই নেই। মুশকিল হল, তাঁর পোষা পণ্ডিতরা একা রামমোহনের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন রামমোহন এবং একথা তাঁর কট্টর শত্রুরাও মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন— তাঁর মতো শাস্ত্রজ্ঞান এই মুহূর্তে বঙ্গদেশে
কারও নেই।
তবে আজ রামমোহন সত্যি সত্যি গভীর সংকটে পড়েছেন। তাঁর মতো পুঁথির সংগ্রহ খুব বেশি মানুষের কাছে নেই। কিন্তু যে বিশেষ পুঁথিটি এই মুহূর্তে রামমোহনের প্রয়োজন— সেটি তাঁর কাছে নেই। এদিকে আগামী কাল মহারণ। দুই পণ্ডিতের মহাযুদ্ধের সম্ভাবনায় থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে কলকাতা।
সুব্রমণ্যম স্বামী নামের এক অহংকারী পণ্ডিত সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন— বাংলায় যেহেতু প্রকৃত ব্রাহ্মণ নেই, তাই বঙ্গদেশে বেদপাঠ অবৈধ।
এই ঘোষণা যখন রামমোহনের কানে এসে পৌঁছয়, তিনি এই ব্যক্তির স্পর্ধায় অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এটা জেনে তাঁর বিস্ময় আকাশ স্পর্শ করেছিল— গোটা বঙ্গদেশের কোনও ব্রাহ্মণ এর কোনও প্রতিবাদ করেননি!
ক্রুদ্ধ রামমোহন রায় সেই কাজটাই করেছেন। এই অপমানের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন, প্রকাশ্যে তর্কযুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন স্বামীকে। এবং যে খবরটা তাঁকে একেবারে স্তম্ভিত করে দিয়েছে, তা হল— রাধাকান্ত সদলে স্বামীকে সমর্থন করছেন। কাল তিনি স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন রণক্ষেত্রে এবং সুব্রমণ্যম স্বামীর পক্ষেই দাঁড়াবেন তিনি।
কিন্তু এই মুহূর্তে রামমোহন অস্বস্তিতে পড়েছেন। একটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সামান্য অভাব বোধ করছেন তিনি। এও তাঁর জানা আছে, একটি বিশেষ গ্রন্থ পড়ে নিতে পারলে সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে। দুর্ভাগ্যবশত, সেই পুঁথিটি তাঁর
সংগ্রহে নেই।
অথচ তিনি জানেন এই পুঁথি কার কাছে আছে।
স্বয়ং করুণাসিন্ধু বিদ্যানিধিই তাঁকে বলেছিলেন, এই পুঁথি রয়েছে রাধাকান্ত দেবের বিপুল সংগ্রহের মধ্যে। বিদ্যানিধি মশাই রাধাকান্তের অবিস্মরণীয় কীর্তি ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর সম্পাদক। তিনিই একদিন বলেছিলেন, এই গ্রন্থ রাধাকান্তর সংগ্রহে আছে।
মুহূর্তের জন্য রামমোহন যেন সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন। এইবার? কী করবেন তিনি? কালকের যুদ্ধে রাধাকান্ত তাঁর বিপক্ষ দলের নেতা। আর আজই তাঁর এমন একটা বইয়ের দরকার হল! কী অদ্ভুত সংকট!
কিছুক্ষণ বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ রামমোহনের মুখের ভাব পাল্টে গেল। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তিনি টেনে নিলেন কাগজ। খাগের কলমটা দোয়াতে ডুবিয়ে খসখস শব্দে লিখে চললেন তিনি।
কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর স্বরে রামমোহন বললেন,‘কই রে, কে আছে এখানে?’
বাইরে থেকে শোনা গেল,‘আজ্ঞে আমি আছি, বাবু।’
‘ভিতরে আয়। একটা কাজ করতে হবে।’
একটু পরেই ঘরে ঢুকল ধুতি-পিরান পরা এক তরুণ।
আরও একবার হাতের কাগজটা ভালো করে দেখে নিয়ে সযত্নে সেটা ভাঁজ করলেন রামমোহন। তারপর ভৃত্যের হাতে সেটা তুলে দিয়ে বললেন, ‘শোন। তোকে একবার শোভাবাজার যেতে হবে...।’
****
অ্যান্টনি কবিয়ালের কণ্ঠস্বর রাধাকান্ত দেবের বড় প্রিয়। শোভাবাজারের এই রাজবাড়িটি এককালে কবিগানের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র ছিল বললে বাড়াবাড়ি হয় না। হরু ঠাকুর ছিলেন নবকৃষ্ণ দেবের প্রিয়তম গায়ক। আজও শোভাবাজার রাজবাড়ি সেই ধারা ধরে রেখেছে। আজ নাটমন্দিরের সামনের প্রাঙ্গণটিতে আয়োজিত হয়েছে তেমনই একটি কবিগানের আসর। বাগবাজারের ভোলা ময়রা এবং অ্যান্টনি কবিয়াল আজ মুখোমুখি হয়েছেন। কিছুক্ষণ আগেই ভোলা বিষ্ণুপুরাণ থেকে একটি কূট প্রশ্ন করেছেন। এইবার অ্যান্টনি তার উত্তর দেবেন। সকলেই উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন অ্যান্টনির দিকে। স্বয়ং রাধাকান্তও এর ব্যতিক্রম নন।
এমন সময় খুব সন্তর্পণে বসে-থাকা অভ্যাগতদের মধ্যে দিয়ে পথ করে নিয়ে রাধাকান্তের পিছনে এসে দাঁড়াল একজন দারোয়ান। ফিসফিস করে বলল, ‘বাবু, অনেক দূর থেকে একটা লোক এসেছে। আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।’
রাধাকান্ত খুবই অবাক হয়ে একবার ফিরে তাকালেন। কবিগান চলার সময় তাঁকে ডাকার নিয়ম নেই। তার মানে এমন কেউ এসেছে, যার জন্য এই ভৃত্যটি সেই নিয়ম ভাঙতে বাধ্য হয়েছে।
এখানে ঠিকমতো কথা বলা যাবে না। বাধ্য হয়ে রাধাকান্ত উঠে এলেন। নাটমন্দিরের পাশ দিয়ে একটি ছোট পথ গিয়ে উঠেছে বাইরের রাস্তায়। দ্রুত পায়ে সেই সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন রাধাকান্ত দেব।
সত্যিই মলিন ধুতি ও পিরান পরা একটি লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে দেউড়ির দারোয়ানদের সামনে। তার এক হাতে একটি প্রকাণ্ড লাঠি, সর্বাঙ্গে ঘাম। দেখলেই বোঝা যায়, সে সাংঘাতিক ক্লান্ত। পাগলের মতো হাঁপাচ্ছে সে।
এই স্তরের মানুষদের সঙ্গে রাধাকান্তের কদাচিৎ কথা হয়। তিনি এগিয়ে যেতেই দেউড়ির দারোয়ানেরা সসম্ভ্রমে সরে দাঁড়াল। লোকটি এগিয়ে এসে রাধাকান্তের সামনের মাটিতে হাত ছুঁইয়ে প্রণাম করল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘বাবু, আমি মানিকতলা থেকে আসছি।’
রাধাকান্তের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। এই রাতে সুদূর মানিকতলা থেকে কে তাঁর কাছে লোক পাঠাতে পারে, তা তাঁর মাথায় এল না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার? কে পাঠিয়েছে তোমাকে?’
‘আজ্ঞে এই চিঠিটি আপনাকে পাঠিয়েছেন রামমোহন রায়।’
সত্যিকারের বিস্ময়ে রাধাকান্তের চোখ দু’টি বিস্ফারিত হয়ে গেল। কাল সকালেই রামমোহন মুখোমুখি হতে চলেছেন সুব্রমণ্যম স্বামীর। রাধাকান্ত নিজেও সেই তর্কের আসরে উপস্থিত থাকবেন। তার আগের রাতে প্রতিপক্ষের কাছে কী খবর পাঠাতে পারেন রামমোহন?
দেউড়ির দু’পাশে দু’টি বড় বড় মশাল জ্বলছে। রাধাকান্ত দ্রুত পায়ে একটি মশালের নীচে গিয়ে দাঁড়িয়ে চিঠি খুললেন।
বড় বড় সুগঠিত অক্ষরে লেখা অতি সংক্ষিপ্ত একটি চিঠি। সবার উপরে একটি শাস্ত্রগ্রন্থের নাম। তার নীচে লেখা আছে—
‘আগামীকল্যের তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হইবার নিমিত্ত এই গ্রন্থটি আমার বিশেষ প্রয়োজন। কোনও সূত্রে অবগত হইয়াছি, গ্রন্থটি আপনার সংগ্রহে আছে। মহাশয় যদি কৃপাপূর্বক সেটি এই ভৃত্যের হস্তে পাঠাইয়া দেন, তবে কৃতজ্ঞ থাকিব। বিনত রামমোহন রায়, সাং- মানিকতলা।’
কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন রাধাকান্ত। এরকম পুরুষ যে পৃথিবীতে থাকতে পারে, তা তাঁর ধারণার বাইরে ছিল। আগামী কাল যে রাধাকান্ত রামমোহনের প্রতিপক্ষ হিসাবে আবির্ভূত হবেন, আজ এই গভীর রাতে তাঁর কাছেই একটি গ্রন্থ চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি!
কয়েক মুহূর্ত স্থির চোখে চিঠির দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ মনস্থির করে ফেললেন রাধাকান্ত। চোখ তুলে তিনি বললেন, ‘তুমি এখানেই দাঁড়াও। ওরে, ওকে আগে জল আর মিষ্টি দে। এতখানি রাস্তা ছুটে এসেছে।’
তারপর জোর পায়ে তিনি হাঁটতে লাগলেন নিজের পড়াশোনার ঘরটার দিকে। এ কাজ অন্য কাউকে দিয়ে হবে না। এই বিশেষ পুঁথিটি ঠিক কোথায় আছে, তা একমাত্র তিনিই জানেন। আর জানেন করুণাসিন্ধু বিদ্যানিধি। কিন্তু তিনি এই মুহূর্তে কবিগানে মত্ত হয়ে আছেন। অকারণে তাঁকে ডেকে পাঠানোর কোনও মানে হয় না।
চাকরকে দিয়ে দরজা খুলিয়ে আলো জ্বালিয়ে দ্রুত নির্দিষ্ট পুঁথিটি খুঁজতে লাগলেন রাধাকান্ত। আজও প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘরেই শব্দকল্পদ্রুমের সংকলনের কাজ করেছেন তিনি। কোন পুঁথি কোথায় আছে, তা তাঁর নখদর্পণে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই যে পুঁথিটি তিনি খুঁজছিলেন, তা তাঁর হাতে উঠে এল। এবার একই গতিতে গ্রন্থাগার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি চলে গেলেন দেউড়ির কাছে।
ইতিমধ্যেই অবশ্য রামমোহনের পাঠানো লোকটি খানিকটা সামলে উঠেছে। লাল শালু দিয়ে বাঁধা পুঁথিটি সযত্নে তার হাতে তুলে দিয়ে তিনি বললেন, ‘এই লও। সাবধানে নিয়ে যাবে।’
লোকটি আরেকবার সেলাম করে ফের ছুটতে আরম্ভ করার উপক্রম করছিল। তার আগেই রাধাকান্ত বললেন, ‘দাঁড়াও। এখন এই গভীর রাতে আবার এতটা রাস্তা তোমার ছুটতে ছুটতে যাবার প্রয়োজন নেই। ওরে, কে আছিস, একটা গাড়ি বের করে ওকে পৌঁছে দিয়ে আয়।’
এইবার লোকটির মুখে ফুটে উঠল কৃতজ্ঞতার হাসি।
সেদিকে আর না তাকিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই রাধাকান্ত মুখোমুখি হলেন করুণাসিন্ধুর। দুই চোখে বিপুল বিস্ময় নিয়ে তিনি তাকিয়ে আছেন রাধাকান্তের শান্ত মুখটির দিকে।
‘বইটা দিয়ে দিলেন দেব-জা? এ যে কাল আপনারই বিরুদ্ধে কাজে লাগবে!’
কয়েক মুহূর্ত স্মিত চোখে তাঁর দিকে তাকিয়ে থেকে রাধাকান্ত বললেন, ‘বিদ্যানিধি মশাই। কাল কী হবে জানেন? এর নাম তর্কযুদ্ধ। যেকোনও যুদ্ধেই অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। এই বইটি রামমোহন রায়ের অস্ত্র হতে চলেছে নিশ্চয়ই, তা না হলে এত রাতে তিনি লোক পাঠাতেন না। আর রাধাকান্ত দেব নিরস্ত্র যোদ্ধার উপর অস্ত্রাঘাত করে না।’
স্তম্ভিত বিদ্যানিধিকে সেখানেই দাঁড় করিয়ে রেখে রাধাকান্ত হাঁটতে লাগলেন কবিগানের আসরের দিকে। ভোলা ময়রার অপূর্ব কণ্ঠস্বর এখান থেকেই শোনা যাচ্ছে।
****
প্রতিদিন খুব ভোরে উঠে স্নান করে সবার আগে নাটমন্দিরেই আসেন রাধাকান্ত। দিনের প্রথম কাজ হল প্রাচীন মদনমোহন বিগ্রহকে প্রণাম করা। সূর্যোদয়ের মুহূর্তে এই কাজটি তিনি করে থাকেন।
আজ প্রণাম করে ফিরে দাঁড়িয়ে তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, একটি অপরিচিত লোক করজোড়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
‘তোমাকে তো চিনলুম না বাপু!’ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন রাধাকান্ত।
‘আজ্ঞে আমি মানিকতলা থেকে আসছি বাবু। রামমোহন রায় আমাকে পাঠিয়েছেন।’
বিস্মিত রাধাকান্ত দ্রুত সিঁড়ি ভেঙে নেমে এলেন লোকটির কাছে। এইবার লোকটি নত হয়ে তাকে প্রণাম করল। তারপর তাঁর হাতে তুলে দিল লাল শালু দিয়ে বাঁধানো সেই পুঁথিটি। তারপর বলল, ‘বাবু এই পুঁথিটি আপনার হাতে তুলে দিতে বলেছিলেন। আর তার সঙ্গে এই কাগজটা দিতে বললেন।’
অসম্ভব বিস্ময়ের সঙ্গে কাগজটি আগেই হাতে তুলে নিলেন রাধাকান্ত। ভাঁজ খুলে দেখলেন, তাতে লেখা আছে তিনটি মাত্র শব্দ।
‘অধিগত করিয়াছি। ধন্যবাদ।’ তার নীচে স্বাক্ষর।
স্তম্ভিত হয়ে কাগজটার দিকে তাকিয়ে রইলেন রাধাকান্ত। এই বিশাল পুঁথি এক রাতের মধ্যে পড়ে আয়ত্ত করে তা ফেরতও পাঠিয়ে দিলেন রামমোহন! এ কী আশ্চর্য ঐশ্বরিক প্রতিভা!
ইতিহাস বলে, ১৮১৯ সালের সেই ঐতিহাসিক তর্কযুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন সুব্রমণ্যম স্বামী। তাঁকে মেনে নিতে হয়েছিল, বঙ্গদেশেও বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের কোনও অভাব নেই। বাংলার ইতিহাসে সে এক মহাগৌরবের দিন।
কিন্তু একথাও মেনে নেওয়া যাক, ভদ্রতার যুদ্ধে রাধাকান্ত দেবও সেদিন পরাজিত হননি। রণাঙ্গনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা দুই পরাক্রান্ত বাঙালি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, এমনকী যুদ্ধক্ষেত্রেও কখনও নীতিকে ত্যাগ করতে নেই।