Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল, মেদিনীপুরে ‘নমো যুব ওয়ারিয়র’ দু’টি পৃথক তালিকা প্রকাশ

ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। সম্প্রতি বিজেপির ‘নমো যুব ওয়ারিয়র’-এর দুটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল, মেদিনীপুরে ‘নমো যুব ওয়ারিয়র’ দু’টি পৃথক তালিকা প্রকাশ
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। সম্প্রতি বিজেপির ‘নমো যুব ওয়ারিয়র’-এর দুটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতারা ও অপর তালিকা প্রকাশ করেছে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চা। ৭টি বিধানসভা এলাকা নিয়ে এই দু›টি তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে। বিজেপির নেতারা জানাচ্ছেন, দুই গোষ্ঠীর নেতারা দু’টি ভিন্ন লিস্ট সামনে এনেছেন। এরফলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে যুব মোর্চার সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে কোন্দল চরমে উঠেছে। একদিকে দিলীপ ঘনিষ্ঠ নেতারা কর্তৃত্ব ফলাতে চাইছে, অপরদিকে দিলীপ বিরোধী শিবির জেলা নেতৃত্বের একাধিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। বিজেপি সূত্রে খবর, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নমো যুব ওয়ারিয়রের লিস্ট তৈরি করেছেন জেলা সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডল সহ জেলার নেতারা। যাঁরা দিলীপ ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাঁদের লিস্টে যুব ওয়ারিওরের জেলা ইনচার্জ সৌরভ ঝাঁ। এছাড়া মেদিনীপুরের জন্য রাহুল ঘোষ, খড়গপুরের দায়িত্বে শান্তনু জানা, খড়গপুর সদরে মলয় সেন, এগরায় রাকেশ গিরি, দাঁতনে সৌম্য কান্তি মাইতি, কেশিয়াড়িতে সৌমেন দাসকে  যুব ওয়ারিয়রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে যুব মোর্চার লিস্ট অনুসারে যুব ওয়ারিয়রের কনভেনর সন্দীপ পাল। এছাড়া মেদিনীপুরের দায়িত্বে রয়েছেন বিনোদ হাতি, খড়গপুরের দায়িত্বে অমিত রানা, খড়গপুর সদরে উমাশঙ্কর রায়, এগরায় অমলেশ পাহাড়ী, দাঁতনে সঞ্জিত জানা, কেশিয়াড়িতে সৃজন ঘোষ। এছাড়া ইনচার্জ হিসেবে খড়গপুরের দায়িত্বে শান্তনু জানা, খড়গপুর সদরে মলয় সেন, এগরায় রাকেশ গিরি, দাঁতনে সৌম্যকান্তি মাইতি, কেশিয়াড়িতে রয়েছেন সৌমেন দাস। বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন, দু’টি লিস্টে ৭টি বিধানসভা এলাকার ভিন্ন ভিন্ন লোকের নাম রয়েছে। এবার কোন লিস্টটিকে নিচুতলার কর্মীরা বৈধ হিসেবে মেনে নেবেন। জেলার যুব মোর্চা লিস্ট প্রকাশ করার পর কেন জেলার নেতারা ফের আরেকটি লিস্ট প্রকাশ্যে আনলেন। দিলীপ ঘনিষ্ঠ নেতারা কীসের স্বার্থে কোন্দল বাঁধাতে চাইছেন। এনিয়ে জেলা বিজেপির যুব সভাপতি আশীর্বাদ ভৌমিককে ফোন করলেও তিনি ফোন তোলেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। জেলা বিজেপির সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডল বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত পাঁচ বছরে একটিও নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেনি গেরুয়া বাহিনী। তার মূলত দু›টি কারণ সামনে আসে। প্রথমত, জেলার বুথ এলাকায় দলের সংগঠন মজবুত নেই। এরফলে বিজেপির বেশিরভাগ কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ছে। দ্বিতীয়টি, দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল। বর্তমানে একই সংগঠনের দু›টি লিস্ট প্রকাশ্যে চলে আসায়, গোষ্ঠী কোন্দল আরও প্রকট হল বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
বিজেপির এক নেতা বলেন, দিলীপ ঘনিষ্ঠ কিছু নেতার ইশারায় চলছে দল। যা নিচুতলার কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। যুব মোর্চার সঙ্গে মাদার সংগঠনের দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। শোনা যায়, জেলা সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডলকে মারধরের ঘটনায় যুব মোর্চার সভাপতি আশীর্বাদ ভৌমিকের নাম জড়ানো হয়েছিল। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, বহু দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিজেপি নামক দলটা বেশিদিন নেই। ভবিষ্যতে একটাই দল থাকবে, যার নাম তৃণমূল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ