নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘাগামী জাতীয় সড়কে অনৈতিকভাবে গাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে চণ্ডীপুর থানার দুই পুলিস কর্মীকে ক্লোজ করলেন পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তায় যানজটে আটকে পড়েন এক ডিএসপি। যানজটের উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি ওই দুই পুলিস কর্মীর ‘কাণ্ড’ প্রত্যক্ষ করেন। এরপর নিজেই ছবি তুলে তা পাঠিয়ে দেন পুলিস সুপারের কাছে। তৎক্ষণাৎ পুলিস সুপার চণ্ডীপুর থানার ওই কনস্টেবল এবং হোমগার্ডকে ‘ক্লোজ’ করার নির্দেশ দেন। রাতেই সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জ দীপককুমার অধিকারী ওই দুই পুলিসকর্মীকে লাইনে পাঠিয়ে দেন। ঘটনায় পুলিস মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিস সুপার বলেন, দুই পুলিস কর্মীকে ক্লোজ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর থানার সামনে ১১৬বি জাতীয় সড়কে ডিউটি করছিলেন এক কনস্টেবল ও হোমগার্ড। তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় থানা মোড়ের কাছে যানজট বেধে যায়। তাতে আটকে পড়েন এক ডিএসপি। তিনি গোটা বিষয়টি দেখার পরই পুলিস সুপারের নজরে আনেন। তারপরই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই দু’জনকে সন্ধ্যায় ক্লোজ করে রাতেই পুলিস লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নন্দকুমার থানার তিন পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে যুগলকে আটকে জোর করে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় এক কনস্টেবল, হোমগার্ড ও এনভিএফ কর্মীর নাম জড়িয়েছিল। নরঘাটের একটি হোটেল থেকে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের আটকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষমেশ এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তুলিয়ে তিন পুলিস কর্মী নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেন পুলিস সুপার।
গত ২৬ মার্চ পাঁশকুড়ার মেচগ্রাম থেকে এক প্রাইমারি স্কুল শিক্ষককে থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। মাদক কেসের ভয় দেখিয়ে একজন সাব-ইন্সপেক্টর জামবনীর জুগিবাঁধ প্রাইমারি স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ সুজিত পড়িয়ার থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ। পুলিস সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর ওই সাব-ইন্সপেক্টরকে তাঁর অফিসে জরুরি তলব করা হয়। সেইসঙ্গে ওই অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএসপি(ডিইবি) তদন্ত করছেন।
আইপিসি-র পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা(বিএনএস) কার্যকর হওয়ার পর বেশ কিছু ক্ষেত্রে ফাইনের অঙ্ক বেড়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল, মাতলামি করলে ফাইনের অঙ্ক একধাক্কায় ৪০টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। প্রতিদিন জেলায় ৪০-৮০জন এই ফাইনের আওতায় পড়েন। জরিমানার অঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। এমনিতেই, টানা পাঁচ বছর মদ বিক্রিতে রাজ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। প্রতিদিন গড়ে এই জেলায় সাড়ে চার কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। আবার সেই মদ খেয়ে পা টলমল করলেই জরিমানার ফাঁদ।