নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: দু’জনের একই নাম। সেই সুযোগ নিয়ে প্যান কার্ড ও আধারে ছবি পাল্টে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। নথি জালিয়াতি করে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ হাতিয়ে নিয়েছিল অভিযুক্ত। যাঁর নামে ঋণ নেওয়া হয়েছিল ও আসল নথি ব্যবহার করা হয়েছিল, তিনি কিছু জানতেনই না। অবশেষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিস। মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম তাপসকুমার দে। কলকাতার হালতুর মজুমদার রোডে একটি ফ্ল্যাটে সে থাকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋণপ্রদানকারী একটি বেসরকারি সংস্থায় তাপসকুমার দে নামে এক সরকারি কর্মীর ‘সিবিল স্কোর’ ভালো ছিল। এই তাপসবাবুর বাড়ি হাওড়ায়। ধৃত তাপসের কাছে কোনওভাবে তাপসবাবুর প্যান কার্ড, আধার কার্ডের কপি ছিল। ওই দু’টি নথিতে সে নিজের ছবি বসিয়ে দিয়েছিল। তারপর সেই জাল নথিপত্র দিয়ে বেসরকারি সংস্থার কাছে ঋণের জন্য আবেদন করে। যে অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হবে, সেখানে ধৃত নিজের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়েছিল। ‘সিবিল স্কোর’ ভালো থাকায় বেসরকারি সংস্থা ঋণ মঞ্জুরও করে দেয়। ধৃতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা ক্রেডিট হয়ে যায়।
এদিকে, ইএমআই জমা না পড়ায় সংস্থার পক্ষ থেকে আসল তাপসবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কারণ, তাঁর নথিই জমা করা হয়েছিল। প্রতারিত তাপসবাবু আকাশ থেকে পড়েন। কারণ, তিনি জানতেনই না যে তাঁর নামে ঋণ চলছে। তারপর খতিয়ে দেখা যায়, জমা করা নথিতে অন্যের ছবি! ঋণদাতা সংস্থার পক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিস। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিস নকল তাপসের খোঁজ পায়। তারপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, তার কাছে কীভাবে নথি এল, সে আরও কতজনের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা করেছে, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।