সংবাদদাতা, পতিরাম: পাড়ায় বসছে নেশার আসর। রোজই চলে মদ্যপান, গাঁজা সেবন ও নানারকম নেশা। মদ্যপদের অশ্লীল কথাবার্তায় বিরক্ত গ্রামবাসী। নেশার আসরের প্রতিবাদ করায় মদের বোতল দিয়ে দু’জনের মাথার ফাটাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার রাতে বালুরঘাট শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিময় ঘোষ কলোনির এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এনিয়ে বালুরঘাট থানায় মদ্যপদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সোমবার ফের বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হয়েছেন এলাকার মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, নেশাগ্রস্তদের সামনে দিয়ে কেউ যেতে পারেন না। মহিলারা গেলেই নানা কটূক্তি করে মদ্যপরা। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বালুরঘাট থানার পুলিস। বালুরঘাট সদর ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার দুই যুবকের মদতে শান্তিময় ঘোষ কলোনির একটি পুকুর ও বাগানে রোজ নেশার আসর বসে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বাইরে থেকে লোকেরা এসে সারারাত নেশা করে। বাগানে মহিলা এনেও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করতে গেলেই স্থানীয়দের ভয় ও হুমকি দেখানো হয়।
গত শনিবার রাতে মদ্যপরা চেঁচামেচি করলে তার প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মিলন মহন্ত। এতেই তেড়ে আসে মদ্যপরা। মিলনকে মারধর করে। এক দুষ্কৃতী মদের বোতল দিয়ে মিলনের মাথায় মারে। রক্তাক্ত মিলনকে বাঁচাতে এলে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে মদ্যপরা। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এলে দীপ দাস নামে এক যুবককেও মদের বোতল দিয়ে মাথায় মেরে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় জখম দুজনই বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি।
জখম মিলনের স্ত্রী সীমা বলেন, সন্ধ্যা থেকেই নেশার আসর বসে। প্রতিদিন মদ, গাঁজা সহ সব ধরনের নেশার আসর বসে। নেশা করে চেঁচামেচি করে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। সন্ধ্যায় রাস্তায় বেরলে মেয়েদের কটুক্তি করে মদ্যপরা। শনিবার রাতে আমার স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে মদের বোতল দিয়ে মারা হয়। গ্রামের আরও একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে মদ্যপরা। আমাকেও মেরেছে। আমরা পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছি।
সোমবার এলাকার মহিলারা একত্রিত হয়ে বালুরঘাট থানায় যান। অবিলম্বে নেশার আসর বন্ধ করতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। থানায় একটি দাবিপত্রও জমা দিয়েছেন মহিলারা। স্থানীয় বধূ পিঙ্কি সরকার বলেন, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। মদ্যপদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মহিলাদের। - নিজস্ব চিত্র।