Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুরে বোমা ফেটে পড়ুয়া সহ দু’জন জখম

বহরমপুরের নিয়াল্লিশপাড়া গোয়ালজান গ্রাম পঞ্চায়েতের বহড়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণে এক বালক ও তার এক দিদা জখম হয়েছেন।

বহরমপুরে বোমা ফেটে পড়ুয়া সহ দু’জন জখম
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুরের নিয়াল্লিশপাড়া গোয়ালজান গ্রাম পঞ্চায়েতের বহড়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণে এক বালক ও তার এক দিদা জখম হয়েছেন। বুধবার সকালে তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। জখম শাকিবুর রহমান ও বৃদ্ধা মানোয়ারা বিবির মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। শাকিবুর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তার পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা আতাহার শেখের বাড়ির পাশে একটি মাঠে খেলা করতে গিয়ে ঝোপে একটি ব্যাগ দেখতে পায় শাকিবুর। ব্যাগের ভিতরে লোহার বল ভেবে সকেট বোমা দু’টি বাড়িতে নিয়ে এসে রাখে। সকাল ৯টার দিকে খেলার জন্য তা বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনওভাবে ব্যাগটি হাত থেকে ফসকে যায়। তাতেই বোমা দু’টি ফেটে যায়। তীব্র আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। জখম দু’জনকে চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বহরমপুর থানার পুলিস। 
অতিরিক্ত পুলিস সুপার(সদর) মাজিদ ইকবাল খান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। জখম দু’জনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাইরে থেকে বোমা কুড়িয়ে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় পর সেটি কোনওভাবে ফেটে গিয়ে বিপত্তি ঘটেছে। 
শাকিবুরের মা আমিনা বিবি বলেন, সকালে তীব্র শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। বাইরে বেরিয়ে দেখি, ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ওকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিছুটা দূরেই আমার ভাবির মাও জখম অবস্থায় পড়েছিলেন। তাঁকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমার স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। বাচ্চাকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। 
জখম মানোয়ারা বিবির মেয়ে আলিফা খাতুন বলেন, শাকিবুর বোমা দু’টি কুড়িয়ে নিয়ে আসে। সেটা হাত থেকে পড়ে গিয়েই বিস্ফোরণ ঘটে। শাকিবুরের হাতে ফেটে গেলে আরও বড় বিপদ হতো। ওর পায়ে বেশি লেগেছে। মায়ের পায়ে ও হাতে আঘাত লেগেছে। 
বহরমপুরের এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের প্রাক্তন সংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের কাছে বোমা মানে মিষ্টি, মিষ্টি মানেই বোমা। তৃণমূল এই দু’টি জিনিসকে মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দিয়েছে। ওদের কাছে বোমা ও মিষ্টির কোনও ফারাক নেই। 
বহরমপুরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, অধিকাংশ সময় পুলিস নিজেরাই ঝোপে ঝাড়ে বোমা রেখে সেগুলি উদ্ধার করে। কোথাও আসল বোমা ধরতে পারে না। যে কারণে প্রতি নির্বাচনে বোমাবাজি হয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকে শাসকদল প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই বোমা হয়তো ফেটে গিয়েছে। 
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার(ডেভিড) বলেন, এই জেলায় কারা বোমা বারুদের রাজনীতি করে, সেটা মানুষ ভালোভাবেই জানে। তবে এখন যারা এসব কথা বলছে, তারা নিশ্চিন্তে থাকুন। গত নির্বাচনগুলি যেমন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, আগামী নির্বাচনও পুলিস শান্তিপূর্ণভাবেই সমস্ত ব্যবস্থা করবে। পুলিসের উপর ভরসা রাখুন। যারা ওখানে বোমা রেখেছিল বা কোনও বাজে কাজ করার চিন্তাভাবনা করেছিল, তাদেরও পুলিস ধরবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ