Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর আতঙ্কে দু’জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল বীরভূমে

এসআইআর আতঙ্কে একই দিনে দু’টি মৃত্যুর অভিযোগ উঠল বীরভূমে। শুক্রবার সকালে প্রথম ঘটনাটি ঘটে সিউড়ি ২ ব্লকের কোমা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গাংটে গ্রামে।

এসআইআর আতঙ্কে দু’জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল বীরভূমে
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এসআইআর আতঙ্কে একই দিনে দু’টি মৃত্যুর অভিযোগ উঠল বীরভূমে। শুক্রবার সকালে প্রথম ঘটনাটি ঘটে সিউড়ি ২ ব্লকের কোমা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গাংটে গ্রামে। সেখানে খেলারাম বেদের (৭৬) মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের। অন্যদিকে, এদিনই মুরারই-২ ব্লকের পাইকর থানার কুশমোর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগিসপুর গ্রামের বাসিন্দা হামেদা বিবির (৬০) মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রেও পরিবারের অভিযোগ একই। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মৃত্যুর ঘটনায় কমিশনকেই দায়ী করছে তৃণমূল।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় গাংটে গ্রামের খেলারাম বেদের (৭৬)। পরিবারের অভিযোগ, গত ২ জানুয়ারি শুনানিতে গিয়েছিলেন খেলারাম। শুক্রবার ফের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল খেলারামকে। মৃতের স্ত্রী অমিতা বেদে (বৈদ্য) বলেন, শুনানির চিঠি আসার পর থেকেই দানাপানি মুখে তোলেনি লোকটা। খালি বলত, আমাকে বোধহয় এবার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। সেই ভয়েই মানুষটা চলে গেল। খবর পেয়েই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান সিউড়ি-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর আতঙ্কেই খেলারামের মৃত্যু হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি খেলারামকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তিনি প্রয়োজনীয় নথিও দিয়েছেন। কিন্তু শুক্রবার তাঁকে ফের শুনানিতে ডাকা হয়। এ বার নতুন কী তথ্য দেবেন সেই আতঙ্কেই খেলারামের মৃত্যু হয়েছে দাবি করেন নুরুল। নুরুলের দাবি, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কমিশন মানুষের মনে ভীতি তৈরি করছে। সব নথি দেওয়ার পরেও কেন বারবার ডাকা হবে? এই মৃত্যুর দায় বিজেপিকেই নিতে হবে।

কমিশন সূত্রের খবর, মৃতের নথিতে প্রচুর অসঙ্গতি রয়েছে। রেশন কার্ডে মৃতের নাম রয়েছে খেলারাম বেদে। আবার আধার কার্ডে নাম খেলা বেদে। ভোটার কার্ডে তাঁর নাম খেলা বেদে থাকলেও আধার কার্ডের সঙ্গে ভোটার কার্ডের বয়সের প্রার্থক্য রয়েছে। জব কার্ডে আবার নাম খেলারাম বৈদ্য। তার উপর মৃতের ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও নাম ছিল না। এসব কারণেই খেলারামকে গত ২ জানুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। যদিও শুক্রবার ফের তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বলে পরিবার দাবি করলেও কোনও নথি দেখাতে পারেনি। দ্বিতীয়বার ডাকার বিষয়টি মানতে চাননি প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে, প্রত্যেক নথিতেই পৃথক নাম ও জন্ম তারিখ থাকায় মনে আতঙ্ক থাকা স্বাভাবিক, তা মানছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা।

অন্যদিকে, এদিনই পাইকর থানার বাগিসপুর গ্রামের হামেদা বিবির মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, বোন রেখা বিবির বাড়িতে থাকতেন তিনি। রেখা ও তাঁর দুই ছেলের নামে শুনানির নোটিশ আসার পর থেকেই দুশ্চিন্তা করছিলেন হামেদা। শুক্রবার রেখা, তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে পাইকর ব্লকে শুনানিতে হাজিরা দিতে আসেন। দুপুর একটা নাগাদ রেখা খবর পান, দিদি হার্ট অ্যাটাক করে বাড়িতেই মারা গিয়েছেন। শুনানির লাইন থেকে বেরিয়ে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফেরেন। খবর পেয়ে এলাকার তৃণমূলে অঞ্চল সভাপতি প্রকাশ মণ্ডল সহ স্থানীয় নেতৃত্ব আসে। রেখা জানান, দুই ছেলে সহ আমার এসআইআর শুনানির নোটিস আসার পর থেকে দুশ্চিন্তা করছিলেন দিদি। সেই আতঙ্কেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন। একই দাবি করেছেন সভাপতিও। সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন এলাকার বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং। কমিশনের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন তিনিও।  জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, তৃণমূল এখন মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে। সাধারণ হার্ট অ্যাটাককেও এসআইআর আতঙ্ক বলে চালানো হচ্ছে। হিম্মত থাকলে ডেথ সার্টিফিকেটে লিখিয়ে আনুক যে আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে। আসলে নিজেদের পায়ের তলার মাটি নেই বলে মিথ্যে প্রচার করছে ওরা।  পরিবারের আর্তনাদ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ