সংবাদদাতা, কাটোয়া: কলকাতাগামী সরকারি বাসের গেট ধরে ঝুলে যাওয়ার সময় কেতুগ্রামে টোলপ্লাজার দেওয়ালে ধাক্কা লেগে রাস্তায় পড়ে দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে এই দুর্ঘটনার পর দু’জন ছটফট করলেও বাস না থামিয়েই চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে। তাঁদের অমানবিক ভূমিকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দা ও মৃতদের পরিজনরা। বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম সোমনাথ চোঙদার(২৮) ও শেখ টিপু সুলতান(৫২)। দু’জনেরই বাড়ি কেতুগ্রামে। এদিনই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে তাঁদের মৃতদেহে ময়নাতদন্ত করা হয়।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসবিএসটিসির চাকটা-কলকাতা বাসটি বোলপুর-কাটোয়া রোড ধরে প্রতিদিন যাতায়াত করে। বাসে প্রতিদিনই ঠাসা ভিড় থাকে। এদিন সোমনাথ ও টিপু সুলতান সাহেব বাস ধরে নিজেদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। মৃতদের পরিজনরা জানান, ভিড় থাকায় দু’জনই বাসের ভিতরে উঠতে পারেননি। তাঁরা গেট ধরে ঝুলছিলেন। কেতুগ্রামের চরখির কাছে নবনির্মিত টোলপ্লাজার দেওয়ালে আচমকা বাসটির গেটে ধাক্কা লাগে। দু’জনেই ছিটকে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা দু’জনকে উদ্ধার করে কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বাসের গেট ধরে দুই যাত্রী ঝুলে থাকলেও বাসকর্মীরা কেন সেটা লক্ষ্য করলেন না?
টোলপ্লাজা থাকা সত্ত্বেও কেন বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃতদের পরিজনরা। দু’জন রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকলেও বাসটি সেখান থেকে চলে যায়। বাসকর্মীরা অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডল বলেন, এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। গেট বন্ধ করে বাস চালানোরই নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দু’জন যাত্রী গেট ধরে কেন ঝুলছিলেন, বাসের কর্মীরা কেন অনুমতি দিলেন তা নিয়ে আমরা তদন্ত করব। প্রয়োজনে বাসকর্মীদের শোকজ করা হবে।
সোমনাথের বাড়ি ভাতারের দেবপুর গ্রামে। আড়াই বছর বয়সে মা মারা যান। তারপর বাবাকেও হারান। সেকারণে ছোট থেকেই কেতুগ্রামে মামাবাড়িতে থাকতেন তিনি। আগে সোমনাথ চেন্নাইয়ে কম্পিউটারের কাজ করত। কয়েক বছর আগে কেতুগ্রামে ফিরে আসেন। এদিন তিনি বাস ধরে সাঁতরাগাছি যাচ্ছিলেন। তাঁর মামা রোহিতাশ্ব কর্মকার বলেন, ভাগ্নে ছোট থেকেই আমার কাছে থাকত। আমি ওকে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। তারপর আচমকা দুর্ঘটনার খবর পাই।
টিপু সুলতান সাহেবের হোটেল রয়েছে বর্ধমানে। তাঁর ভাগ্নে মহম্মদ হোসেন বলেন, মামা প্রতিদিন ওই সরকারি বাসে করেই হোটেলে যান। দুর্ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও বাসের চালক দাঁড়াননি। অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছেন। প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিক। দুর্ঘটনায় মৃত দুই যাত্রী।