Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পাঁশকুড়া-দীঘা দু’টি স্পেশাল ট্রেন বন্ধ রইল, বিপাকে পর্যটকরা

আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সোমবার পাঁশকুড়া-দীঘা দু’টি স্পেশাল বন্ধ রইল। অথচ, শহিদ মাতঙ্গিনী, তমলুক, নন্দকুমার, লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক, দেশপ্রাণ ও হেঁড়িয়া সহ বিভিন্ন স্টেশনে সকালের ওই ট্রেন ধরার জন্য কাতারে কাতারে যাত্রী স্টেশনে দাঁড়িয়ে রইলেন।

আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পাঁশকুড়া-দীঘা দু’টি স্পেশাল ট্রেন বন্ধ রইল, বিপাকে পর্যটকরা
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সোমবার পাঁশকুড়া-দীঘা দু’টি স্পেশাল বন্ধ রইল। অথচ, শহিদ মাতঙ্গিনী, তমলুক, নন্দকুমার, লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক, দেশপ্রাণ ও হেঁড়িয়া সহ বিভিন্ন স্টেশনে সকালের ওই ট্রেন ধরার জন্য কাতারে কাতারে যাত্রী স্টেশনে দাঁড়িয়ে রইলেন। দীঘা যাওয়ার জন্য পরিবার পরিজন ও ব্যাগপত্র নিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাত্রীরা জানতে পারেন, এদিন স্পেশাল ট্রেন আসবে না। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের অপর স্পেশালও এদিন চলেনি। তবে, সকাল ৭টার স্পেশাল যাতে চালু থাকে যাত্রীরা তার জোরালো দাবি তুলেছেন। সোমবার সন্ধ্যা রেলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপ্তি জারি করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ১৯আগস্ট থেকে ১৫সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার সপ্তাহ সকাল ৭টার পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশাল ট্রেন চালানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, পাঁশকুড়া-দীঘা লাইনে মাত্র চারটি লোকাল চলাচল করে। তারমধ্যে একটি সকাল ৮টায় মেচেদা থেকে ছাড়ে। বাকি তিনটি দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে। দীঘাগামী পর্যটকরা বার বার সকালে আরও একটি লোকাল চালানোর দাবি তুলেছিলেন। রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও সকালে স্পেশাল ট্রেনের দাবি তোলা হয়। কারণ, সকাল ৮টার লোকালে দমবন্ধ করা ভিড় হয়। অধিকাংশ দিন যাত্রীরা উঠতে পারতেন না। এই সমস্যা সমাধানে স্পেশাল ট্রেন চালানো বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।গত ৯ এপ্রিল রেল কর্তৃপক্ষ সকাল ১১টায় পাঁশকুড়া থেকে দীঘা স্পেশাল ট্রেন চালু করে। সামার স্পেশাল হিসেবে ওই ট্রেন চলছিল। গত ২৫ জুন রেল কর্তৃপক্ষ সকাল ৭টায় পাঁশকুড়া থেকে দীঘা আরও একটি স্পেশাল চালু করে। সকাল ৭টায় সকালের ওই স্পেশাল চালুর পর ১১টার স্পেশালের সময় পরিবর্তন করা হয়। সকাল ১১টার পরিবর্তে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে পাঁশকুড়া থেকে ছাড়ছিল। প্রতি দু’ সপ্তাহ অন্তর ওই দু’টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়। শেষ নির্দেশিকায় ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ট্রেন চলবে বলে উল্লেখ ছিল। তারপর ১৮ আগস্ট সোমবার দু’টি স্পেশালই বন্ধ। যাত্রীদের কাছে এ নিয়ে আগাম খবর ছিল না। এদিন স্পেশাল না চলায় তাঁরা হতাশ। এদিন সকালে শহিদ মাতঙ্গিনী, তমলুক, নন্দকুমার, লবন সত্যাগ্রহ স্মারক ও দেশপ্রাণ স্টেশনে প্রচুর যাত্রী পৌঁছে গিয়েছিলেন। লবন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আটাত্তর গ্রামের রানু মণ্ডল মাইতি, মঠ চণ্ডীপুরের স্বপন দলপতি, কলাগেছিয়ার রূপকুমার দাস বলেন, সকাল ৭টার স্পেশাল এখানে ৭টা ৫০ মিনিটে আসে। দীঘা যেতে গিয়ে এভাবে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে ভাবতেও পারিনি। সকালের এই ট্রেন চালু রাখা জরুরি। আশা করব, রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সকালের স্পেশাল চালু রাখবে। পাঁশকুড়া-হলদিয়া-দীঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সরোজ ঘড়া বলেন, জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই দীঘার পর্যটক অনেক বেড়েছে। তাই পাঁশকুড়া থেকে দীঘা সকালের স্পেশাল খুবই জরুরি। এটি বন্ধের পরিবর্তে যাতে স্থায়ী করা হয়, সেই আর্জি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে রেখেছি। খড়্গপুরের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার বলেন, পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশাল চালু রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো আছে। নির্দেশিকা এলে ব্যবস্থা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ