সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: সাইবার প্রতারণার মাস্টার মাইন্ড মহম্মদ সাইদুলের জমি ক্রোকের নির্দেশ দিল আদালত। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’বছরে সে ফাঁসিদেওয়ায় ‘মিউল’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। সেই টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে জমি ও বাড়িতে। তাই আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের জমি ও নির্মীয়মাণ বাড়ি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের হেপাজত থেকে উদ্ধার হওয়া ২৩২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। যাতে আছে প্রায় ৭৮ লক্ষ টাকা। একইসঙ্গে খড়িবাড়ির দুই মাদক কারবারির সাতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, অপরাধের টাকায় ওই সব সম্পতি করেছিল অভিযুক্তরা। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের সম্পত্তি ক্রোক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ছ’মাস আগে সাইবার প্রতারণার মামলায় সাইদুলকে গ্রেফতার করে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে তারা সাইদুলের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। এরপরই পুলিশ ধৃতের সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন আদালতের কাছে জানায়। গত ৯ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির আদালত ধৃতের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চটহাটের মধ্য বাঁশগাঁও মৌজায় ধৃতের নামে দু’টি জমি আছে। যারমধ্যে একটির আয়তন ১২ ডেসিমেল। তাতে নির্মাণ কাজ চলছে। আরএকটি জমির আয়তন ৯ ডেসিমেল। বর্তমানে জমিগুলির দাম কয়েক লক্ষ টাকা। ফাঁসিদেওয়া থানার এক অফিসার বলেন, শীঘ্রই প্রশাসনের সহযোগিতায় সেগুলি ক্রোক করা হবে। সেগুলি বিক্রি করে প্রতারিতদের সহায়তা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৮ মে সাইদুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে সাইদুলকে ও তার কয়েকজন সাগরেদকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাইদুল সাইবার প্রতারণার টাকা লেনদেন করত। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪৬৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। যারমধ্যে ৫০টি অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে ৩৩০ কোটি টাকার জালিয়াতির হদিশ মিলেছে। যা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এরবাইরে ২৩২টি অ্যাকাউন্টে ‘ফ্রিজ’ রয়েছে ৭৮ লক্ষ টাকা।
অন্যদিকে, খড়িবাড়ির দুই মাদক কারবারির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কির এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে খড়িবাড়ি সহ উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন থানায় মাদক পাচারের মামলা রয়েছে। সে ব্রাউন সুগার ও হেরোইন পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মাথা। কয়েকবার জেলও খেটেছে। অভিযুক্তের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। অভিযুক্তের আরএক সঙ্গী প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের জেলে বন্দি। ধৃতের ছ’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্ধার প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা।
খড়িবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, সেগুলি মাদক কারবারের টাকা। তাই আইন অনুসারে ওই টাকাগুলি উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে রাখা হয়েছে। এরবাইরে অভিযুক্তদের পানিট্যাঙ্কি, বাগডোগরা ও নকশালবাড়িতে কিছু জমি রয়েছে। সেগুলির নথি জোগাড় করা হচ্ছে। মাদক কারবারের টাকায় সেগুলি কেনা হয়েছে। তাই সেগুলি ক্রোক করার আবেদন আদালতে জানানো হবে।