Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে জখম দু’জনের মৃত্যু, জেলায় কাটাই গ্যাসের রমরমা, বাড়ছে উদ্বেগ

কান্দির কুমারষণ্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আরও দুই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন রিজিয়া বিবি(৬৫), মানজা বিবি(৪৮)

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে জখম দু’জনের মৃত্যু, জেলায় কাটাই গ্যাসের রমরমা, বাড়ছে উদ্বেগ
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কান্দির কুমারষণ্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আরও দুই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন রিজিয়া বিবি(৬৫), মানজা বিবি(৪৮)। তাঁরা সম্পর্কে মা ও মেয়ে। তবে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নতুন তথ্য সামনে আসছে। ছোট পাঁচ লিটারের সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোট কাটাই গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। সিলিন্ডারটি মাঝখান থেকে আড়াআড়িভাবে দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা যে কতটা ভয়াবহ ছিল, তা এই ছোট সিলিন্ডারের অবস্থা দেখে সহজেই অনুমান করা যায়। তবে, পাশে থাকা বড় সিলিন্ডার সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় আছে। এই মারাত্মক বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে কুমারষণ্ডের বাসিন্দা ডালিম শেখের বাড়িতে রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। পরিবারের ছয় সদস্যকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিন বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এদিন আরও দু’জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন। এখনও তিনজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসনাত শেখ বলেন, ভয়ঙ্কর এই বিস্ফোরণ কীভাবে হল, আমরা সঠিকভাবে বুঝতে পারছি না। ছোট গ্যাস সিলিন্ডারটি মাঝখান থেকে দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, উনুনে রান্না হচ্ছিল। পাশে গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল। চার বা পাঁচ লিটারের ছোট সিলিন্ডারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
শুধু কান্দি-ই নয়, এমন ছোট ছোট সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস ভরে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় প্রতিটি থানা এলাকায় বাণিজ্যিক কাজকর্মে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। বসতবাড়িতেই পাম্প লাগিয়ে ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের সাহায্যে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হচ্ছে। এরপর অসাধু কারবারিরা সেগুলি অবৈধভাবে বিক্রি করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উজ্জ্বলা গ্যাসের সিলিন্ডার কিংবা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারি ভর্তুকিতে পাওয়া সিলিন্ডার কিনে নেওয়া হয়। গৃহস্থরা যে দামে সিলিন্ডার কেনেন, তার থেকে ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিয়ে এই সিলিন্ডার হাতিয়ে নেয় অসাধু কারবারিরা। তারপর সেই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস কাটাই করে একাধিক ছোট সিলিন্ডারে ভরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। হাতেগোনা কয়েক জায়গায় পুলিশ অভিযান চালালেও এই সমস্ত অসাধু কারবারিদের বিরুদ্ধে কখনই কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। প্রতিমাসে দু’-একটি জায়গায় জেলা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ অভিযান চালিয়ে কিছু সিলিন্ডার উদ্ধার করছে। কিন্তু জেলাজুড়ে কাটাই গ্যাসের এই রমরমা কারবারে কোনওভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না।
মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, কাটাই গ্যাস বা অবৈধ সিলিন্ডারের খোঁজ পেতে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিইবি বিভিন্ন জায়গা থেকে সিলিন্ডার উদ্ধার করছে। সূত্র মারফত পাওয়া খবরগুলি খতিয়ে দেখে অভিযান চালানো হয়। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ