নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রবিবার রাতে চণ্ডীপুর থানার মগরাজপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় পুলিসের এক অফিসার সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম রবীন্দ্রনাথ বারি(৪৪) ও সোমনাথ প্রামাণিক(২৩)। রবীন্দ্রনাথবাবু হলদিয়া থানার এএসআই ছিলেন। তাঁর বাড়ি তমলুক থানার পায়রাচালি গ্রামে। সোমনাথের বাড়ি চণ্ডীপুর থানার বৃন্দাবনপুর-২পঞ্চায়েতের অধীন খাগদা গ্রামে। তিনি মেদিনীপুরে হোমিওপ্যাথির তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সোমনাথ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথবাবুর শ্যালিকার ছেলে। সোমবার তমলুকে পুলিস লাইনে নিহত পুলিস অফিসারকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। হলদিয়া থানার আইসি রাজর্ষি দত্ত বলেন, রবীন্দ্রনাথবাবু আমাদের থানার এএসআই ছিলেন। চণ্ডীপুরে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
জানা গিয়েছে, চণ্ডীপুর থানার নরঘাটে রবীন্দ্রনাথবাবুর শ্বশুরবাড়ি। কালীপুজো উপলক্ষ্যে সেখানে তিনি সপরিবারে গিয়েছিলেন। রবিবার রাতে নিজের প্রাইভেট গাড়িতে ভূপতিনগর থানার মাধাখালিতে তাঁর এক শ্যালিকাকে নামিয়ে ফিরছিলেন। সেই গাড়িতে ছিলেন সোমনাথ। মাধাখালি থেকে ফেরার সময় রাত ১১টা ২০মিনিট নাগাদ মগরাজপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজে ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় কাঁথির দিকে একটি ইটবোঝাই লরি যাচ্ছিল। রবীন্দ্রনাথবাবু নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ব্রিজ থেকে নামার সময় প্রচণ্ড গতিতে থাকা পুলিস অফিসারের ওই গাড়িটির সঙ্গে ইটবোঝাই লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের জেরে বিকট আওয়াজ হয়। ট্রাফিক পুলিস ও চণ্ডীপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিস অফিসারের গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। সংঘর্ষে লরির সামনের অংশও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রবীন্দ্রনাথবাবুর গাড়িটি সংঘর্ষের পর লরির সামনের অংশে ঢুকে যায়। ফলে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই গাড়ি থেকে কোনওরকমে দু’জনকে বের করা যাচ্ছিল না। ক্রেন এনে দু’টি গাড়ি আলাদা করার পর প্রাইভেট গাড়ির ভিতর থেকে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে এএসআই রবীন্দ্রনাথবাবুর মৃত্যু হয়। সঙ্কটজনক অবস্থায় সোমনাথকে এসএসকেএম হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। সোমবার ভোরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে এএসআইয়ের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে রাস্তার উপর অপেক্ষা করেছিলেন। নরঘাটে সোমনাথকে নামিয়ে সেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের গাড়িতে তুলে তমলুকের নিজের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল ওই পুলিস অফিসারের। সেইমতো মাধাখালি থেকে ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। কিন্তু ৫০০মিটার আগে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সবশেষ।
বৃন্দাবনপুর-২গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা মৃত সোমনাথের কাকা অশোক প্রামাণিক বলেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীঘাগামী ১১৬বি জাতীয় সড়ক যেন মরণফাঁদ হয়ে উঠছে। প্রায় দিন ঘটছে দুর্ঘটনা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিস সুপার জেলায় ১২টি জায়গায় সাব ট্রাফিক গার্ড অফিস বানিয়েছেন। তার অধিকাংশ ১১৬বি জাতীয় সড়কের ধারে। কিন্তু, তারপরেও দুর্ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না।